
নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “গণ অভ্যুত্থানের একক দাবিদাররাই এখন কক্সবাজারে ‘অবকাশ’ যাপনে! জাতি জানতে চায়, গণতন্ত্রের উত্তরণের দিনে এমন আত্মঘাতী ভূমিকা কেন?”
তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের নামে কেউ যদি নতুন কোনো চক্রান্তের জাল বোনার চেষ্টা করে, জনগণ তা প্রতিহত করবে। কে বা কারা এসব করছে, জনগণ আজ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।”
সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় পৌর শহরের উত্তর বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। এসময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হালুয়াঘাটের তিন শহীদ— বিজয় ফরাজী, সেলিম সেখ ও মুনিরের পরিবারের হাতে শহীদ স্মারক তুলে দিয়ে তাদের সম্মাননা জানানো হয়।
প্রিন্স আরও বলেন— “একজন তথ্য উপদেষ্টা তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে’। এই বক্তব্য কোনো সাধারণ কথা নয়। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। আল্লাহ না করুন, যদি সেরকম পরিস্থিতি ফের তৈরি হয়, তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবে এই সরকারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করা কিংস পার্টির লোকজন এবং তাদের দুই সহযোগী রাজনৈতিক দল।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে যারা দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। যারা চক্রান্তে লিপ্ত, তাদের জনগণ উপযুক্ত জবাব দেবে।”
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “সংস্কার ও জুলাই ঘোষণায় আমরা ঐক্যমত্যে পৌঁছেছি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন আর সময় নেই, জনগণ নির্বাচনের তারিখ জানতে চায়। অনেক প্রতিশ্রুতি, অনেক বিলম্ব, এগুলো আর চলবে না। জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন, নির্বাচিত সংসদ ও সরকার ছাড়া দেশকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সংস্কার, শহীদদের রক্তের প্রতিফলন৷ সবকিছুই এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে হবে।
বক্তব্য শেষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও শহীদদের ছবি ও ফেস্টুন হাতে বিশাল বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, শহীদদের পরিবারের সদস্য, অধ্যাপক আমজাদ আলী, আলমগীর আলম বিপ্লব, হোসনে আরা নিলু, সুভ্রা পন্থ্রা, রুহুল আমিন খান, আবদুল গনি, শফিকুল ইসলাম, নাঈমুর আরেফিন পাপন, নূরে আলম জনি, তাজবির হোসেন অন্তর, আকিকুল ইসলাম সরকার, শেখ সাদিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে প্রিন্স সকালেই ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিজয় মিছিলে অংশ নেন এবং শহীদ হাফিজুল, সাদেকুর, শাজাহান ও সোহেল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের হাতে শহীদ স্মারক তুলে দেন। একইদিনে তিনি শহীদ সোহেল মিয়ার কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শান্তনা জানান।


















