
নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “হীন স্বার্থে সুপরিকল্পিতভাবে গণ অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভাজন ও অনৈক্য সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী অপশক্তিকে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার বিকেলে হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর ৪নং ওয়ার্ড এবং সন্ধ্যায় দক্ষিণ বড়দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা ও নৈরাজ্য গণতন্ত্রকে কুক্ষিগত রাখার গভীর ষড়যন্ত্র। এমরান সালেহ প্রিন্স মন্তব্য করেন, “কয়লা ধুইলেও যেমন ময়লা যায় না, তেমনি গণ-অভ্যুত্থানে পতন ঘটলেও আওয়ামী লীগের খাইসালত বদলায় না। ওরা গণশত্রু, গণহত্যাকারী—ওদের কোনো ক্ষমা নেই।”
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে বিএনপি দেশে ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের মুখে আন্দোলন করে আসছে। “গোপালগঞ্জের মতো দেশে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবুও আমরা মাথা নত করি নাই।”
নির্বাচন প্রশ্নে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, ফ্যাসিস্টরা তত সুযোগ পাবে। তাই রোজার আগে নয়, প্রয়োজনে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি গণ অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টিকারী দলসমূহের প্রতি ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানান এবং বাস্তবতা উপলব্ধি করে একযোগে কাজ করার বার্তা দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের হামলাকারী দুষ্কৃতিকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিএনপি কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্টদের প্রশ্নে আপস করবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
কর্মী সমাবেশে ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মজিবর রহমানকে সভাপতি, আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক, তৈজউদ্দিনকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং আব্দুস সমদকে সহসভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
কৈচাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন—হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর আলম বিপ্লব, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা নিলু, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান, বিএনপি নেতা আলী মাহমুদ, রেজাউল আহসান, মোরশেদ আলম, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার রসূল খোকন, রুহুল আমিন ফকির, আবুল কাশেম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক খালেদুজ্জামান আউলিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা নুরুজ্জামান হেলাল প্রমুখ।


















