
মোমেনা আক্তার সনিয়া, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি ২০২৫ সফল করতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে ময়মনসিংহে গার্ল গাইড ও স্কাউটদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৭ অক্টোবর দুপুরে জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ভিআইপি মিলনায়তনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফায়জুল হক।
কর্মশালায় জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে ২৬ জন গার্ল গাইড এবং ২৬ জন স্কাউট প্রতিনিধি অংশ নেন।
জেলা তথ্য অফিসে আয়োজনে,ইউনিসেফের সহযোগিতায়, কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘টাইফয়েড টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। একবার টিকা নিলে শিশু পাঁচ বছর পর্যন্ত টাইফয়েড থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ তিনি গার্ল গাইড ও স্কাউটদের নিজ নিজ বিদ্যালয় ও এলাকায় টিকা গ্রহণে উৎসাহ জোগাতে এবং নিবন্ধনে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
এ সময় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, ‘গার্ল গাইড ও স্কাউটরা সমাজের অগ্রভাগে থেকে স্বাস্থ্যসচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারে। তাদের এই অবদানকে সনদ প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আসাদুজ্জামান, ইউনিসেফের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ফিল্ড অফিস প্রধান মো. ওমর ফারুক, গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিশনার নাছিমা আক্তার, বাংলাদেশ স্কাউটস ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক অলক চক্রবর্ত্তী এবং জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ।
এ সময় বক্তারা গার্ল গাইড ও স্কাউটদের টাইফয়েড টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র তথ্য অফিসার শেখ মো. শহীদুল ইসলাম, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন, জাতীয় ইপিআই বিশেষজ্ঞ ডা. তারিকুল ইসলাম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভেইল্যান্স ও ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মুত্তাকীন, জেলা তথ্য অফিসের সহকারি পরিচালক আফসানা ফেরদৌস মিষ্টি।
তারা অডিও-ভিজুয়াল উপস্থাপনায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে অনলাইনে টিকা নিবন্ধনের পদ্ধতি তুলে ধরেন।
বক্তারা জানান, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি ২০২৫, যার আওতায় ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ১৫ লক্ষাধিক শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবছর দেশে গড়ে তিন লাখ শিশু টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ছয় হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে টাইফয়েড আক্রান্তের হার সর্বাধিক বলে উল্লেখ করেন তারা।


















