ফুলপুরে শূন্যে ঝুলছে সেতু!—নদী খননের পর সরে গেছে মাটি, ধসে পড়ার আশঙ্কা

তবু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রামসোনা-বাইশকাহনিয়া সড়কে মালিঝি নদী থেকে বের হওয়া একটি খালের ওপর নির্মিত ব্রিজ এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নদীর নিচের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি শূন্যে ঝুলছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কিছুদিন পর মালিঝি নদীটি নতুন করে খনন করা হয়। তবে সেই খনন ছিল পুরোপুরি অপরিকল্পিত ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিবেচনা না করেই বাস্তবায়িত। ফলে নদীটি পূর্বের তুলনায় অনেক গভীর হয়ে পড়ে। এর ফলে ব্রিজের পিলার ও পাটাতনের নিচে থাকা মাটি সরে যায় এবং ধীরে ধীরে ভরহীন হয়ে পড়ে ব্রিজটি। এখন সেটি একপ্রকার শূন্যে ঝুলছে।

ব্রিজটির দুই প্রান্তেই ফাটল ধরেছে। পাটাতন একপাশে হেলে পড়েছে। তারপরও প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই চলাচল করছে শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী এবং হালকা যানবাহন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

See also  ফুলপুরে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে চেক ও সেলাই মেশিন তুলে দিলেন ইউএনও--সীমা

ব্রিজের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। এর পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দে ব্রিজটি মেরামত করা হয়।

কিন্তু এই মেরামত কাজ ছিল দায়সারা ও নিম্নমানের। বর্ষার পানির প্রথম ঢলেই মেরামতকৃত অংশ ধসে পড়ে এবং ব্রিজটি আগের মতো ঝুলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ—সঠিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেকসই কোনও কাজ না করেই রঙচঙ দিয়ে প্রকল্পের অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ছনধরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন খান বলেন, আমরা পিআইও অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যেহেতু পূর্বের মেরামত কাজ টেকসই হয়নি, তাই নতুন করে টেকনিক্যাল টিম পাঠিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

See also  গৌরীপুরে অলিতে-গলিতে ৩১ দফা প্রচারে আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিজ বলেন,
যেভাবে মাটি সরে গেছে, তা শুধু সিমেন্ট লাগিয়ে বা ফাটল বন্ধ করে ঠিক করা যাবে না। পাইলিংসহ নতুন করে সেতু নির্মাণ করতে হবে। নইলে শিগগিরই কেউ প্রাণ হারাবে।

অন্য এক প্রবীণ বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এখানে বর্ষাকালে নদীর পানি প্রবল বেগে আসে। সেই চাপ কোনো সাময়িক মেরামত টিকাতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে সেতুর অবস্থান ও নকশা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।”

ফুলপুরের রামসোনা-বাইশকাহনিয়া সড়কের এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি এখনই পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা ও দায়সারা কাজ মানুষের জীবন নিয়ে যে খেলা করছে, তা অগ্রহণযোগ্য। প্রতিদিন যে ঝুঁকিতে মানুষ চলাচল করছে—তা যেন, ফুলপুরের প্রাণহানি শিরোনামে সংবাদ না হয়ে যায়!

 

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with