
তপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
অভিযানের সিনেমাটিক দৃশ্যকেও হার মানিয়েছে তারাকান্দা থানা পুলিশের টানা ধাওয়া। অন্ধকার রাত, গতি বাড়িয়ে পালাতে থাকা ডাকাতদল, আর পিছু নেমে নিরলস ছুটে চলা পুলিশ। অবশেষে প্রায় ৩০ কিলোমিটার রুদ্ধশ্বাস ধাওয়ার পর আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্যকে ট্রাকসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
শনিবার (১৬ আগস্ট) ভোর রাতে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট-নেত্রকোনা আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ডাকাত দলের আরও কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া কবিরাজপাড়ার মো. জবেদ আলী এবং নীলফামারীর ডোমার থানার হলহলিয়া গ্রামের মো. আশরাফ আলী।
তারাকান্দা থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দিন জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে থানার ওসি টিপু সুলতানের নেতৃত্বে মধুপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় খবর আসে, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ট্রাকসহ অবস্থান করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাক তল্লাশির চেষ্টা করলে ডাকাতরা গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর শুরু হয় পুলিশের ধাওয়া। প্রথমে শম্ভুগঞ্জ হয়ে আবার তারাকান্দার দিকে, পরে ব্যারিকেড দেখে ফের শম্ভুগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনার দিকে ট্রাক ছুটে চলে। অবশেষে কামারিয়া সাধুপাড়া এলাকায় স্থানীয় জনতার সহায়তায় ট্রাকটি একটি ডোবায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই আটক হয় দুই ডাকাত।
পালানোর সময় আটককৃত জবেদ আলী পায়ে আঘাত পেলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তাদের সাথে আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল—আল-আমিন, মনির, লাকের, সোহেলসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। পুলিশের ধাওয়ায় সুযোগ বুঝে তারা পালিয়ে যায়। ধাওয়া ব্যর্থ করতে সড়কে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ফেলে পুলিশের পথরোধ করারও চেষ্টা করে তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টিপু সুলতান বলেন, “ডাকাত দলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এই অভিযান,যেখানে পুলিশের সাহস, ধৈর্য আর কৌশলেই ভেস্তে গেল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের বড় পরিকল্পনা


















