অবৈধ বালু উত্তোলন: রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ

কবির উদ্দিন ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

“নদী আমার মা, তার বুক চিরে কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ”—শুধু কথার কথাই নয়, বাস্তব চিত্র এখন এমনই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা ধোবাউড়াও এর ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি ঘোষগাঁও কামাখ্যা মন্দির এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহউদ্দিন বিশ্বাস। এ সময় অবৈধভাবে বালু ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগে ঘোষগাঁও গ্রামের জহিরুল ইসলাম (৪৪)-কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই ঘটনায় দর্শা গ্রামের বাবর শেখকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ম্যাজিস্ট্রেট।

See also  বিএনপি বিরোধিতা রাজনৈতিক ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি প্রিন্সের"

বালু নদীর প্রাণ। কিন্তু অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশ নিচু হয়ে যাচ্ছে, ভাঙন তীব্র হচ্ছে। এক সময় যেখানে নৌচলাচল ছিল নিরাপদ, এখন সেখানে জেগে উঠছে চর। কৃষিজমি, বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে নদী থেকে বালু তুলে বাজারজাত করছেন। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, আর ধোবাউড়ার নদী ও খালগুলো হারাচ্ছে স্বাভাবিক গতি।

সরকার ২০১০ সালের ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ প্রণয়ন করলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন এখনও দুর্বল। অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানেও রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় চাপে কাজ বন্ধ থাকে দিনের পর দিন। ফলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়।

See also  র‌্যাব-১৪’র অভিযানে ময়মনসিংহে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, প্রধান অভিযুক্ত আকাশ গ্রেফতার

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চলবে এবং অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইনি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন জনসচেতনতা ও বিকল্প কর্মসংস্থান ব্যবস্থা। স্থানীয় যুবকদের অবৈধ ব্যবসা থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ধোবাউড়ায় একদিনের অভিযান হয়তো সমস্যা মেটাবে না, তবে বার্তা দিয়েছে—আইন রয়েছে, প্রয়োগ শুরু হয়েছে। যদি সচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতা একসঙ্গে কাজ করে, তবে অবৈধ বালু উত্তোলনের দুষ্টচক্র ভাঙা সম্ভব বলে মনে করেন নাগরিক সমাজ।

 

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with