ধোবাউড়ায় ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, সন্দেহভাজন ২ জন আটক

এস.এম. বাবর ​ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে আটক করেছে।
​গত রোববার সন্ধ্যার পর উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংগাটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম নিছান মনি (৫)। সে ওই গ্রামের রাজু মিয়া ও নাছিমা খাতুনের মেয়ে।

​এই ঘটনায় আটককৃতরা হলেন—একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন (১৪) এবং রমজানের ছেলে মারুফ হোসেন (২০)।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার আছরের নামাজের পর থেকে শিশু নিছান মনিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকেও নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা হয় এবং গ্রামবাসীসহ স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কংস নদীর পানিতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন স্থানীয়রা। পরে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

See also  পেশাদারিত্ব ও ঐক্যের বার্তা, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবারও সালাম-নজরুল

মৃত্যুর পর শিশুটির মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের দাবি, দাফনের আগে মরদেহ গোসল করানোর সময় তারা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং স্পষ্ট যৌন নির্যাতনের আলামত দেখতে পান। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিছান মনির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নিছান মনির মা নাছিমা খাতুন ও বাবা রাজু মিয়া এখন দিশেহারা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা বলেন, “আমাদের অবুজ মেয়েটাকে যারা এভাবে নির্যাতন করে মেরে ফেলল, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার যেন আমরা পাই, যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।”

See also  মহানগর যুবদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আলোচনায় রাজপথের সাহসী সৈনিক আলম

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার পেছনে মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with