
আব্দুল হক লিটন
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ৪ নম্বর গালাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সোরহাব হোসেন আকন্দ। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, সামাজিক কর্মকাণ্ড, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে।
সোরহাব হোসেন আকন্দ গালাগাঁও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া গ্রামের মরহুম নজরুল হক মাস্টারের কনিষ্ঠ পুত্র। ২০১২ সাল থেকে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে তার অনুসারীরা জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো সাধারণ মানুষের কথা শোনা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এসব ক্ষেত্রে সোরহাব হোসেন আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসার সভাপতি ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন।
পেশাগত জীবনেও তিনি তারাকান্দা উপজেলা সাব-রেজিস্টার দলিল লেখক সমিতির বর্তমান উপদেষ্টা এবং একজন দলিল লেখক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ওঠাবসার কারণে তার সামাজিক পরিচিতিও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সুধী মহল।
রাজনীতিতেও দীর্ঘ পথচলা রয়েছে সোরহাবের। ১৯৯৮ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ২০০২ সালে ৪ নম্বর গালাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরের বছর ২০০৩ সালে তারাকান্দা থানা ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সোরহাব হোসেন আকন্দ সমাজসেবী ও ন্যায়পরায়ণ হিসেবে পরিচিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানসিকতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার গুণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাদের দাবি, দল তাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিলে নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।
ইউনিয়নের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ ও শালিস-দরবারে সোরহাব হোসেন ন্যায়সংগত সমাধানের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে একজন জনপ্রতিনিধির কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে—তিনি যেন দল-মত নির্বিশেষে সবার কথা শুনবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন। তাদের প্রত্যাশা, সোরহাব নির্বাচিত হলে এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নের অন্যতম সমস্যা মাদক। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো প্রয়োজন। সোরহাব হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করবেন—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।
স্থানীয় ভোটারগন বলছেন, চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থীর শুধু রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই হয় না, তাকে হতে হয় সৎ, দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থাকার মানসিকতাসম্পন্ন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে সোরহাবের মধ্যে এসব গুণের সমন্বয় রয়েছে।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোরহাব হোসেন আকন্দ বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলেন এবং এ সময় বিভিন্ন মামলার আসামিও হয়েছেন। দল ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি।
তিনি বলেন, গালাগাঁও ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই তার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। দল তাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি মাদকমুক্ত, উন্নত ও সুন্দর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চান। রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করা, যুব সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
সোরহাব হোসেন আকন্দ আরও বলেন, তার প্রয়াত পিতা নজরুল হক মাস্টারেরও স্বপ্ন ছিল তিনি একদিন জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করবেন। পিতার সেই স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা গালাগাঁও ইউনিয়নে তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করবেন—এমন প্রত্যাশা তার।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনে জয়ী হলে সোরহাব হোসেন আকন্দ যেন শুধু একটি দলের প্রতিনিধি না হয়ে পুরো ইউনিয়নের মানুষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি ইউনিয়নবাসীর আস্থা ধরে রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
Bijoy71 TV Bijoy71 TV