
শেরপুর সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ২১ রোহিঙ্গা পুশইন করেছে বিএসএ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গা পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। এবার শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ২১ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ভারতের কিলাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা নাকুগাঁও সীমান্তের ১১১৬ নম্বর মেইন পিলার অতিক্রম করে ১১ জন শিশু, ৫ জন নারী ও ৫ জন পুরুষকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠিয়ে দেয়।
ঘটনার পরপরই হাতিপাগাড় বিজিবি ক্যাম্পের টহলদল তাদের আটক করে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে নিকটবর্তী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি হাসান। তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে আটককৃতদের পরিচয় ও পটভূমি যাচাই-বাছাই করছি। এরপর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
২০১৭ সালে পালিয়ে ভারতে গমন
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আটক ২১ জন ব্যক্তি ৬টি পরিবারের সদস্য। তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীতে তারা ক্যাম্প ত্যাগ করে অবৈধভাবে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে চলে যায়। সেখানে তারা বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল।
প্রায় এক মাস আগে ভারতীয় পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারা আটক হয় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। এ প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
আগেও ঘটেছে পুশইনের ঘটনা
উল্লেখ্য, এর আগে ১১ জুলাই একই উপজেলার পানিহাতা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ আরও ১০ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশইন করেছিল বিএসএফ।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পুশইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং শরণার্থী বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করে। বাংলাদেশ সরকার এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও রোহিঙ্গা শরণার্থী সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় চলমান রয়েছে।






















