জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ ময়মনসিংহের পরিবহন খাত

মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ

ময়মনসিংহে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পরিবহন খাতে। এতে গণপরিবহন, ভাড়ায় চালিত গাড়ি ও ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চালক ও শ্রমিকরা। বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া সমন্বয় না হলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে জ্বালানি তেলের নতুন দাম। এতে ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা লিটার হয়েছে।

একসঙ্গে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে কথা বলে জানা গেছে, মোটরসাইকেল, রেন্ট-এ-কার, নোয়া, হাইস ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের প্রতিদিনের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আগের ভাড়াই বহাল থাকায় বাড়তি ব্যয়ের চাপ চালকদেরই বহন করতে হচ্ছে।

See also  ময়মনসিংহে ৬১ গ্রাম হেরোইনসহ ৭ মাদক কারবারি গ্রেফতার

চালকদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন পরিচালনার অন্যান্য খরচও বেড়ে যায়। কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ফলে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাদের আয় কমে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ জেলা হালকা মোটরযান পরিবহন শাখার অধীনে প্রায় তিন শতাধিক প্রাইভেটকার, নোয়া ও হাইস মাইক্রোবাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। তাদের দাবি, এসব যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেলেও আয় একই থাকায় চালক ও শ্রমিকদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

See also  সন্ত্রাসী কায়দায় চাচাকে পিটিয়েছে ভাতিজা, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি এলাকাবাসীর

ময়মনসিংহ জেলা হালকা মোটরযান পরিবহন শাখার সভাপতি মো. আইনাল মিয়া বলেন, জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে ২০ টাকা বাড়ায় চালক-শ্রমিকরা নতুন করে সংকটে পড়েছেন। বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়া নির্ধারণ করা না হলে পরিবহন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু যানবাহনের পরিচালন ব্যয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়তে পারে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন ব্যয়েও। তবে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাড়তি ব্যয়ের চাপ কীভাবে সামাল দেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চালক ও শ্রমিকরা।

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with