ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ময়মনসিংহে ঝরে গেল ১১ প্রাণ

শুক্রবার (২০ জুন) সন্ধ্যা নামতেই ভয়াবহ দুটো সড়ক দুর্ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে ময়মনসিংহ। জেলার তারাকান্দা ও ফুলপুর উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শিশুসহ ১১ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। দুর্ঘটনাগুলোতে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বৃদ্ধ, নারী, কিশোর এবং পরিবহনচালকসহ একাধিক সাধারণ যাত্রী।

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায়। একটি সিএনজি অটোরিকশা ও বিপরীত দিক থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান বরাটিয়া গ্রামের জবেদা খাতুন (৮৫) এবং মদীপুর সুতারপাড়া গ্রামের কিশোর রাকিবুল হাসান (১৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ আলম (৩৫), যিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শুইলাম বুধবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটি হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলেও দুর্ঘটনার সময় এতে কোনো রোগী ছিল না। দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে রয়েছে আরও তিন যাত্রী ও অ্যাম্বুলেন্সের হেলপারসহ অন্তত পাঁচজন। তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

See also  কারা কর্তৃপক্ষের অসাধু সদস্যদের সহায়তায় পালানো তিন আসামি ফের গ্রেফতার

রাত বাড়তেই আরও এক ভয়াবহতা নেমে আসে ফুলপুরে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইন্দারাপার মোড়ে শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পাঁচজন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

ফুলপুর দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কাজিয়াকান্দা গ্রামের ফরিদ মিয়া (৩৮), নিশুনিয়াকান্দা গ্রামের জহর আলী (৭০), বাট্টা গ্রামের গৃহবধূ হাসিনা খাতুন (৫০), কয়ারহাটি গ্রামের শামসুদ্দিন (৬৫) এবং রংপুর জেলার বাসিন্দা আজিম উদ্দিন (৩৫)। নিহত বাকি তিনজনের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি, তবে তাদেরও মাহিন্দ্রার যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় মাহিন্দ্রার চালকসহ আহত হয়েছেন আরও আটজন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দুজনকে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গুরুতর অবস্থায় আসা রোগীদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান।

See also  ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ গ্রাহককে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়, অভিযোগের পর টাকা ফেরত!

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা দুর্ঘটনাকবলিত বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে ফুলপুর-হালুয়াঘাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাদি বলেন, “বাসের চালকও দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন। নিহতদের সবাই মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন। জনতা উত্তেজিত হয়ে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।”

একই দিনে দুটি বড় দুর্ঘটনায় একাধিক পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেছে। শোকাহত স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সচেতন এলাকাবাসী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও কঠোর সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

 

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with