
প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নিরঞ্জন ধর হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান আসামি শামীম মিয়াকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তার শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তার একটি অনৈতিক ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন। ওই ভিডিও দেখিয়ে শামীমকে ব্ল্যাকমেল করে ধাপে ধাপে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং আরও টাকা দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে বটি দিয়ে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর মরদেহ চটের বস্তায় ভরে একটি বড় নীল রঙের চালের ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরে বাসার মালামাল সরানোর কথা বলে ইজিবাইকচালক হানিফ মিয়াকে ডেকে ড্রামটি নেওয়া হয়। পরদিন রাতে মিশুকযোগে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটের পানিতে ড্রামটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ড্রাম খুলে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পরিচয় পাওয়া না গেলেও প্যান্টের পকেটে থাকা ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের একটি টোকেনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত নিরঞ্জন স্বর্ণের কারিগর ছিলেন। পাশাপাশি তার চারটি অটোরিকশা ছিল। খাগডহর এলাকার একটি গ্যারেজে অটোরিকশাগুলো রাখা হতো। ওই গ্যারেজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুবাদে শামীমের সঙ্গে নিরঞ্জনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের বটতলা এলাকার সরদার মার্কেট থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানে শ্যালকের ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার শামীমকে আদালতে সোপর্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
Bijoy71 TV Bijoy71 TV