হালুয়াঘাটে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ধ-র্ষ-ণে-র ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার

মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ

যেখানে জ্ঞানের আলো জ্বালানোর স্থানে এক প্রতিবন্ধী তরুণী হারিয়েছে তার জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা। একজন শিক্ষক, যিনি হওয়ার কথা ছিলেন শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক, সেই শিক্ষকই নেমে গেলেন নরকের গভীরে।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম কর্তৃক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী শারমিন আক্তার (২০)কে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে, চলছে আইনি প্রক্রিয়া।

ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়,
তার ছোট বোন ছোটবেলা থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। বাবা জীবিত থাকাকালে বলেছিলেন, এই মেয়েটিকে কখনো একা রেখো না, বইয়ের সঙ্গে রাখো, যেন স্কুলের পরিবেশে কিছুটা আনন্দ খুঁজে পায়। কিন্তু সেই স্কুলই একদিন হলো তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার জায়গা।

গত ২২ অক্টোবর, বিকেলের সন্ধ্যার আগে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম কৌশলে প্রতিবন্ধী ধর্ষিতাকে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার নামাজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে ঘটে অবর্ণনীয় সেই নৃশংসতা,একজন প্রতিবন্ধী তরুণীর আর্তচিৎকার, অপমান, আর অসহায় নিস্তব্ধতা! স্কুলের কিছু ছাত্র-ছাত্রী ঘটনাটি দেখে ফেললে শিক্ষক দ্রুত পালিয়ে যায়।

See also  অবৈধ বালু উত্তোলন: রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর আগেও একাধিকবার উপযুক্ত শিক্ষক ধর্ষিতার প্রতি অনৈতিক আচরণ করেছিল, কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে তা প্রকাশ করতে পারেনি।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত শিক্ষক পরিবারকে হুমকি দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

বোনের কান্না আর লজ্জা সহ্য করতে না পেরে বড় বোন থানার দ্বারস্থ হন।
তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বুধবার দুপুরে গ্রেফতার করে।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন) বলেন ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে হালুয়াঘাট থানার হেফাজতে রয়েছেন। ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হবে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

See also  বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে ডেকে নিয়ে খুন করেন মোকছেদ আলীকে

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশের পর সমগ্র হালুয়াঘাটে নেমে আসে নিন্দার ঝড়।
একজন শিক্ষক, যার হাতে শিশুরা জ্ঞান, নৈতিকতা আর নিরাপত্তা খুঁজে বেড়ায়, তার হাতে এমন বর্বরতা পুরো সমাজকে হতবাক করেছে।

স্থানীয় আব্দুল করিম নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষকের হাতে দিই সম্মান আর বিশ্বাসের জায়গা থেকে। কিন্তু আজ একজন শিক্ষক সেই বিশ্বাসকে ছিন্নভিন্ন করেছে।

স্থানীয়মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রতিবন্ধী নারীকে এভাবে নির্যাতন শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য বর্বরতা।
তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এদিকে ধর্ষিতার বোন জানান, আমার বোন প্রতিবন্ধী, সে তো নিজেকে বাঁচাতে পর্যন্ত পারে না। তাকে যে শেখানোর কথা ছিল মানুষ হতে, সেই শিক্ষকই তার জীবনটা নষ্ট করে দিল। আমরা শুধু বিচার চাই, ন্যায়বিচার

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with