
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
বাংলাদেশের রাজনীতির অর্ধশতক ঘিরে যেমন সংগ্রাম ও আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে, তেমনি রয়েছে ত্যাগী নেতাদের অবদানও। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা নির্বাচনী রাজনীতি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণ বুঝতে পেরেছে, দল টিকে থাকে ত্যাগী কর্মীর ওপর, আর দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব জনগণের আস্থা হারায়।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর–তারাকান্দা) আসন দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী আসন। প্রতিটি নির্বাচনে এখানকার রাজনীতি থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আসনটি নিয়ে দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিভক্তি রয়েছে। চলমান সময়ে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে; তাদের নানা কর্মকাণ্ডকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় লবিং বা প্রভাবশালী মহলের খাতিরে নয়, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েত উর রহমান। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের এই সুযোগ্য সন্তান প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে দলের দুঃসময়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার হাত ধরেই ফুলপুর–তারাকান্দা আসনে ২০০১ সালে প্রথম ধানের শীষের বিজয় এসেছিল।
২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করে নীরবে, বিনা ক্ষোভে সংগঠনে কাজ করে গেছেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি সৎ, মেধাবী এবং ক্লীন ইমেজের রাজনীতিবিদ, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
দলের ভেতরে একাধিক গোষ্ঠীর টানাপোড়েনে মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কিছু প্রার্থী প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতা ও আর্থিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে যেতে চাইছেন। এতে হতাশ কর্মীদের প্রশ্ন, “ত্যাগী নেতাদের ভূমিকা তবে কোথায়?”
তৃণমূলের জোর দাবি, দীর্ঘদিন দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। তোষামোদী এজেন্সির খাতিরে নয়, মাঠপর্যায়ের বাস্তব তদন্তই নির্ধারণ করবে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েত উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির গত ৪৫ বছরে আমাদের শিখিয়েছে, দুর্নীতি, প্রভাবশালী মহলের খাতির কিংবা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আসা নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সৎ, ত্যাগী ও ক্লীন ইমেজের নেতাই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পান।
জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো প্রার্থী টেকসই হয় না, যত বড়ই তার কেন্দ্রীয় লবিং থাকুক না কেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন একটাই, যোগ্য ও সৎ প্রার্থী কি মনোনয়নের সুযোগ পাবেন? নাকি আবারও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে আসবেন?
তৃণমূলের আশা, দীর্ঘ চার দশক ধরে দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েত উর রহমান এবার যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন। কারণ তার মতো ত্যাগী ও ক্লীন ইমেজের নেতাই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ফুলপুর–তারাকান্দা আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতিতে এক নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় বিভিন্ন দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।
তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য। ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ বার ইউনিটের আওতাধীন আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়কের দায়িত্বও সামলান। ১৯৯৮ সালে অবিভক্ত ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে ২০১২ সালে ফুলপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হন তিনি।
দলের অনেক নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির দুঃসময়ে দলের কর্মী ও নেতাকর্মীদের পাশে থেকে তিনি সর্বদা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছেন। তার অবদান ফুলপুরসহ ময়মনসিংহ উত্তর জেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Bijoy71 TV Bijoy71 TV