
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার দুধ মহলে প্রতিদিনই পানি মিশ্রিত দুধ বিক্রির অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত বা প্রশাসনিক অভিযান চোখে পড়েনি। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে এবং ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।
উপজেলার প্রধান দুধ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত পাইকারি ও খুচরা বিক্রি চলে জমজমাটভাবে। তবে একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করেন, দুধ বাসায় নেওয়ার পর জ্বাল দিলে তা অস্বাভাবিকভাবে পাতলা হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দুধের স্বাদ ও ঘনত্বেও পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা সন্তানদের জন্য ভালো দুধ কিনতে চাই। কিন্তু বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দেখি দুধের চেয়ে পানির পরিমাণ বেশি। দামের তুলনায় মান পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক ভোক্তা গৃহিণী রওশন আরা জানান, “দুধের দাম বেশি হওয়ায় কষ্ট করে কিনি। কিন্তু জ্বাল দিলে বুঝি এতে পানি মেশানো। প্রশাসন যদি নিয়মিত অভিযান চালাত, তাহলে এমনটা হতো না।
একজন ক্ষুদ্র খামারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা খামারের খাঁটি দুধ দিই। কিন্তু বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত পানি মিশিয়ে পুরো বাজারের সুনাম নষ্ট করছে। এতে আমাদেরও ক্ষতি হচ্ছে।
বর্তমানে দুধের দাম তুলনামূলক বেশি।
স্থানীয়রা জানান, অধিক মুনাফার আশায় কিছু ব্যবসায়ী দুধে পানি মিশিয়ে পরিমাণ বাড়াচ্ছেন। এতে একদিকে ভোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণ ও নমুনা পরীক্ষা ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুধ মহলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং নিয়মিত মনিটরিং চালু করা জরুরি। পাশাপাশি দুধের মান পরীক্ষার জন্য দ্রুত পরীক্ষাগার সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। হালুয়াঘাটের দুধ বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।






















