আত্মগোপন শেষে ফের প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী জুটন চন্দ্র ঘোষ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আবারও প্রকাশ্যে দেখা মিলেছে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি জুটন চন্দ্র ঘোষের। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তার পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য।

স্থানীয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাদের ওপর হামলার ঘটনায় জুটন চন্দ্র ঘোষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলন দমনে তিনি ও তার অনুসারীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে চলে গেলেও সম্প্রতি আবারও প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রভাব খাটিয়ে হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জুটন চন্দ্র ঘোষ। সে সময় তিনি প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ অর্জন করেছেন বলেও দাবি করা হয়।

See also  হালুয়াঘাট কৈচাপুর মাইজপাড়ায় ১৯ বছর আইনি লড়াই শেষে জাল দলিল প্রমাণ করল পিবিআই

ভুক্তভোগী পরিবারের একাধিক সূত্রে জানা যায়, জুটন চন্দ্র ঘোষের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং পরে সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। বিএনপি পন্থী সাংবাদিকরা তার কথা না শুনলে বিভিন্নভাবে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতেন বলে জানায় কর্মরত সংবাদিকরা।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানা গেছে।
এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও চোরাকারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে জুটন চন্দ্র ঘোষের বিরুদ্ধে। সীমান্তের সাধারণ মানুষ বলছেন৷ এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ আরও রয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতেন তিনি। মাত্র দুই বছরের মধ্যে পৌর শহরে জমি ক্রয় ও তিনতলা ভবনের ফাউন্ডেশন করে একতলা বাড়ির নির্মাণ  নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

See also  ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ডুবে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু, নিখোঁজ দুই শিশু

এদিকে সম্প্রতি তাকে হালুয়াঘাট থানাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এক আত্মীয় উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় সেই প্রভাব দেখিয়েই তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

তার পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা যায়।

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with