
মোঃ আব্দুল হক লিটন
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বহুল আলোচিত শিক্ষার্থী শাহীনুর আলম ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই নারীকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মারমুখি আচরণ করেন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১), শামছুল হক (৪৪), গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম (২৪), হাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আব্দুল হেলিম (৫১) এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)।
এছাড়া ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নারী হলেন—মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছা. খালেদা আক্তার (৪৯) এবং গোলাম হোসেনের স্ত্রী মোছা. রেহেনা খাতুন (৪৮)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ইকবালকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গোপন করতে আসামিরা একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ পুঁতে রাখে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে লাশের ওপর মরা শিয়াল, গোবর ফেলে এবং উপরে গাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কেউ সহজে বুঝতে না পারে।
ইকবাল নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তার বড় ভাই সেলিম মিয়া তারাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংক থেকে ইকবালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
নিহত ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তার বাবা আব্দুর রউফ স্থানীয়ভাবে একজন মুদি ব্যবসায়ী। স্থানীয়রা জানান, ইকবাল শান্ত স্বভাবের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তার এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মামলাটির তদন্ত শেষে আদালতে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও শুনানি সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সব প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় প্রদান করেন। আসামিপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম. খালেকুজ্জামান।
রায় ঘোষণার পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।






















