
ইনসেডে,সুফিয়া খাতুন
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার দাদরা গ্রামে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নারীকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয় সেপটিক ট্যাংকে। নিখোঁজের চারদিন পর গলিত লাশ উদ্ধার হলে শুরু হয় তদন্ত। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
৩ জুলাই সকাল ১০টার দিকে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে থানা পুলিশসহ পিবিআই, সিআইডি ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর ছায়া তদন্তে নামে পিবিআই ময়মনসিংহ।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহতের নাম সুফিয়া খাতুন (৩৪), তিনি ফুলপুর উপজেলার পাতিলগাঁও গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে। গত ২৯ জুন তিনি ছাগল বিক্রির জন্য তারাকান্দা বাজারে গিয়েছিলেন এবং এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তার ভাই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, দাদরা গ্রামের রোহান মিয়া (২৫) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সুফিয়ার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে। ২৯ জুন রাতে সুফিয়াকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় এবং পরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। নিহতের মোবাইল ফোন ও ৪ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় সে।
পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সালাহ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ৫ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফুলপুর উপজেলার বেপারীপাড়া এলাকা থেকে রোহানকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেখানো মতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, “এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। আমাদের আভিযানিক টিম ও সদর দপ্তরের সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে পেরেছি।”
রোহান মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিবিআই মামলাটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। তদন্তকারীরা জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






















