
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের আগস্ট/২০২৫ মাসের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সবার নজর কাড়লেন হালুয়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাগর সরকার এবং ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আল মামুন সরকার। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জনগণের আস্থা অর্জনে তাঁদের অনন্য অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে জেলা পুলিশ।
সভায় জানানো হয়, এএসপি সাগর সরকার তাঁর নেতৃত্ব, কর্মনিষ্ঠা ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে হালুয়াঘাট সার্কেলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করেছেন। জনবান্ধব পুলিশিং, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা নিষ্পত্তি এবং সার্কেলের অফিসারদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টিতে তাঁর দক্ষতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিকতা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।
অন্যদিকে ওসি মোঃ আল মামুন সরকার ধোবাউড়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন শক্ত অবস্থান। মাদক দমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন, মামলার দ্রুত তদন্ত ও সমাধানে তিনি রেখেছেন অসামান্য দৃষ্টান্ত। এলাকাবাসীর আস্থা অর্জনে তাঁর ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। ধোবাউড়া থানাকে জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত করতে তাঁর কার্যকর নেতৃত্ব অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
এ ছাড়াও আগস্ট মাসে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃত হয়েছেন ভালুকা মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মোশারফ হোসেন, নান্দাইল মডেল থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ রেজাউল করিম, ত্রিশাল থানার এসআই (নিরস্ত্র) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল, জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ তোয়াবুল ইসলাম খান এবং সদর ট্রাফিক জোনের টিএসআই মোঃ নুরুজ্জামান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম। তিনি পুরস্কৃতদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “মাঠপর্যায়ে দক্ষ নেতৃত্ব ও আন্তরিকতা ছাড়া জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। এএসপি সাগর সরকার ও ওসি আল মামুন সরকার তাঁদের কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছেন। তাঁদের এই কৃতিত্ব অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন কিছু কল্যাণমূলক সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
একইদিন বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা। সেখানে জেলার মাদক উদ্ধার, গ্রেফতারি পরোয়ানা নিষ্পত্তি, মূলতবি মামলা ও স্পর্শকাতর মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম সভায় বলেন, “অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
সভায় জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ নিয়েছেন, পুরস্কৃত এই সাতজন কর্মকর্তার সাফল্য ভবিষ্যতে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্ব পালনে আরও অনুপ্রাণিত করবে। বিশেষ করে সার্কেল এএসপি সাগর সরকার ও ওসি আল মামুন সরকারের শ্রেষ্ঠত্ব গোটা জেলায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।






















