আব্দুল হক লিটনঃ
যারা কিছুক্ষণ আগেও নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখছিল—তাদের নিথর দেহ পড়ে আছে একই বিছানায়। গলাকাটা স্ত্রী আর দুই সন্তানকে একসাথে দেখে শোকে পাথর রফিকুল ইসলাম। ডিউটি শেষে ঘরে ফিরে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মুখোমুখি হবেন—সেটা কল্পনাও করেননি তিনি।
সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর শহরের টিএনটি রোডে একটি ভাড়া বাসা থেকে মা ও দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন—ময়না আক্তার (২৫), তার মেয়ে রাইসা আক্তার (৪) ও ছেলে নিরব মিয়া (২)।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে নিহত ময়নাদের দেবর নজরুল ইসলাম (৩২)। তার কক্ষ তল্লাশি করে পুলিশ একটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করেছে, যা দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির জানান, নিহত ময়নার বাড়ি ভালুকার রাজই ইউনিয়নের কুল্লাব গ্রামে। ২০১৭ সালে তার বিয়ে হয় রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। বর্তমানে রফিকুল ভালুকার স্থানীয় রাসেল স্পিনিং মিলে কাজ করেন। প্রায় দেড় মাস আগে তারা পৌর শহরের টিএনটি রোডে হাইয়ুমের বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। সেখানে রফিকুলের ছোট ভাই নজরুল ইসলামও একসাথে ভাড়া থাকতেন।
রফিকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাতের শিফটে কাজে যান। সকালে ফিরে এসে বাসার গেইট বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে গেইট ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এরপর ঘরের দরজার তালা ভেঙে ঢুকে স্ত্রীর ও দুই সন্তানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার পর নজরুলের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করে পুলিশ। ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই নজরুল এই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, তারা এমন ভয়াবহতা আগে কখনও দেখেননি। স্বজন হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন রফিকুল।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Bijoy71TV Bijoy71TV