কাজে অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না হুঁশিয়ারি ইউএনও’র

তপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদ। ইউনিয়ন পর্যায়ে রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ চলমান ৩০১টি প্রকল্পের কাজ এবার হচ্ছে নজিরবিহীন স্বচ্ছতায়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে উপজেলার প্রায় ২৫ কিলোমিটার ইটের সলিং রাস্তা, ১৫ কিলোমিটার মাটির রাস্তা, ২.৫ কিমি এইচবিবি রাস্তা, ৬টি ব্রীজ ও একাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা ও ৩৭০ মেট্রিক টন চাল-গম।

উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে প্রতিটি কাজের মান নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক সাদিয়া ইসলাম সীমা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশীষ কর্মকার নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করছেন।

See also  সকল সুপারিশ ডাস্টবিনে রেখে স্বচ্ছতার মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ নিয়োগ সম্পন্ন করলেন স্থানীয় প্রশাসন -------

ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, ফুলপুরের গ্রামীণ অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে আমরা কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। কাজের শুরু থেকেই পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি— অনিয়ম সহ্য করা হবে না। কেউ যদি কাজের মানের সঙ্গে আপস করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে ইউএনও নিজে প্রকল্প সভাপতিদের সতর্ক করে দিচ্ছেন যেন কোনো প্রকার অনিয়ম না ঘটে।
তিনি বলেন,আমি নিজে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঠে কাজের মান যাচাই করছি। এখন পর্যন্ত যেসব প্রকল্প পরিদর্শন করেছি, বেশিরভাগ কাজই সন্তোষজনক হয়েছে। আশা করি, বাকি কাজগুলোও গুণগতমান ঠিক রেখে শেষ হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশীষ কর্মকার বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে প্রকল্পগুলো নিয়মিত মনিটর করছি। সভাপতিদের বার্তা দেওয়া হয়েছে— অনিয়ম হলে প্রকল্পের টাকা আটকে দেওয়া হবে। আগামীতে বড় পরিসরে পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ফুলপুরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”

See also  হালুয়াঘাটে ইজারার নামে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ইউএনওর

এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অনেকেই জানান, এবারই প্রথম তারা এত কঠোর তদারকি দেখছেন। এক প্রকল্প সভাপতি বলেন,

আগে এমন নজরদারি কখনো দেখিনি। ইউএনও স্যারের সততা ও কঠোর মনিটরিংয়ে প্রকল্পে অনিয়ম করার সাহস আমরা পাচ্ছি না। উনি আসার পর থেকে প্রকল্পে স্বচ্ছতা এসেছে।”

এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে ফুলপুরের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্ষাকালে যেখানে চলাচল ছিল কষ্টসাধ্য, এখন সেখানে পাকা ও সলিং রাস্তায় সহজে যাতায়াত করা যাচ্ছে।

ফুলপুরের সচেতন মহল মনে করছেন, এই স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই ফুলপুর দেশের অন্যতম মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with