
তপু রায়হান রাব্বি
ফুলপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় প্রশাসনের গ্রাম পুলিশ নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও সুপারিশ এর ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করার মৌখিক অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘ সময়ের পর এই প্রথম ময়মনসিংহের ফুলপুরে স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকল সুপারিশ ডাস্টবিনে রেখে শতভাগ স্বচ্ছতায় এ নিয়োগ পরীক্ষা গত শুক্রবার(২৯শে আগস্ট) সম্পন্ন করেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে গ্রাম পুলিশ (দফাদার ও মহল্লাদার) ১৫টি শূন্য পদে সম্পন্ন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। কোনো প্রকার ঘুষ, তদবির বা প্রভাব ছাড়াই, আবেদনের ভিত্তিতে মাত্র ৩০০ টাকার ব্যাংকড্রাফ দিয়ে সম্পন্ন হয় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই নিখুঁত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার জন্য উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা। স্থানীয়রা মনে করছেন, তাঁর দৃঢ় ও নৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
জানা যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর আবেদনকারী কম থাকায় আরো একমাস সময়সীমা বাড়ানো হয়। ৯টি ইউনিয়নে মোট আবেদন করেন ৬২ জন চাকরী প্রত্যাশী। লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৫৭ জন। লিখিত পরীক্ষায় দফাদার পদে পয়ারীতে ৪ জন ও বালিয়াতে ১ প্রার্থী ১ জনই উত্তীর্ণ হয়। ৭ ইউপিতে মহল্লাদফদারে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়। পরে মৌখিক বা ভাইবা পরীক্ষায় ছনধরায় ১জন, ভাইটকান্দিতে ১ জন, সিংহেশ্বরে ৩ জন, সদর ফুলপুরে ১ জন, রহিমগঞ্জে ৩ জন, রূপসীতে ৩ জন এবং বওলায় ১ জন উত্তীর্ণ হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তরা জানান, তাদের কারোরই ঘুষ কিংবা তদবিরের প্রয়োজন হয়নি। শুধুমাত্র নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই তারা গ্রাম পুলিশে নিয়োগ পেয়েছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও গর্বের জায়গা তৈরি করেছে। আবেদনকারীর অনেক অভিভাবক বলেন, ইউনুর স্যারের সৎ গতি, আমাদের আত্মবিশ্বাসযোগিয়েছে। তাই জানতাম বর্তমান কর্মকর্তা সঠিক মেধা যাচাই করে ঘুষ ছাড়াই এবার চাকরি দিবেন। সেই বিশ্বাস থেকেই আবেদন করিয়ে ছিলাম। আজ আমরা সত্যিই খুশি। বিনা পয়সায় চাকরি হয়—এটা আজ চোখে দেখলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সন্তান গ্রাম পুলিশে চাকরি পেয়েছে।
তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তপু রায়হান রাব্বি বলেন, ইউএনও মহোদয় নিজেই রাত জেগে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র তৈরী করে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ কার্যালয়ে একা বসে প্রশ্ন ছাপান। পরে নিজেই পরীক্ষার ২০ মিনিট আগে ফুলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশ্ন নিয়ে যান। এছাড়াও স্থানীয় পুলিশ ও আনসার প্রশাসনকে সাথে রেখে খুব কঠোর ভাবে নিয়ম শৃংখলার মাধ্যমে পরীক্ষা নেন। পরীক্ষা থেকে শুরু করে ফলাফল পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত কাউকে বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। এছাড়াও তিনি নিজে ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ৫ কর্মকর্তাকে নিয়ে উত্তরপত্র যাচাই বাছাই করে দুপুর ২ টায় ফলাফল ঘোষণা দিয়ে, বিকাল তিনটা থেকেই মৌখিক পরীক্ষা শুরু করেন। একেবারে প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন রাত সাড়ে ৮টায়। যা সারাদিন উনাদের পাশে থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পেলাম। তিনি শুধু একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই আলাদা করে তুলেনি বরং সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আস্থার আলো জ্বালিয়েছে। বিনা পয়সায় চাকরির ঘোষণা হওয়ার পর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকের চোখে আনন্দের জলও দেখা যায়।
৬,৭ ও ১০ নং এর ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, অনেক দিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের সময়ে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ হয়েছে কিন্তু এমন কঠোর ও কঠিন নিয়ম কখনো চোখে পড়েনি। এবারে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে প্রমাণ হয়েছে মেধা আর যোগ্যতার আসল পরিচয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, আমরা ১৫ জনকে নিছক যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছি। এখানে কেউ কোনো ধরনের সুপারিশ বা ঘুষের আশ্রয় নেয়নি। আমরা চাই, তারা যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে।






















