ফুলবাড়িয়ায় ‘পাগলী’ নারী অন্তঃসত্ত্বা: যৌন নিপীড়নের দায়ে উঠতি যুবকদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনতা

মোমেন আক্তার সোনিয়া , ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের জয়না বাজারে সম্প্রতি এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাজারের আশপাশে অবস্থান করা এক মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন (পাগলী পরিচয়ে পরিচিত) নারীকে রাতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক যুবক ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যৌন নির্যাতনের শিকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই নারী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও দোকানদার।

জয়না বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও পথচারী জানান, গত প্রায় ৭–৮ দিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ওই নারী বাজারের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছেন। দিনে তাকে খাবার দিতে দেখা গেলেও রাতে নির্জনতা নেমে এলে কিছু বখাটে ও স্থানীয় উঠতি বয়সের যুবক তাকে ঘিরে ধরে অমানবিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়।

একজন দোকানদার বলেন, রাত ১২টার পরে কিছু ছেলে ওই পাগলী মেয়েটার পাশে যায়। কিছু বললে উল্টা হুমকি দেয়। এখন মেয়েটার পেট ফুলে গেছে। খুবই খারাপ অবস্থা।”

See also  রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদার ও সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ধোবাউড়ায় মানববন্ধন

এই ঘটনার বিষয়ে অনেকে মুখ খুলতে চাইছেন না, আবার কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বাজারের আশপাশে এই ধর্ষণের ঘটনা রাতভর চলে, কিন্তু পাগলী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করে না বা পুলিশের কাছে যায় না।

সাধারণ মানুষের এমন নিষ্ঠুর আচরণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের জ্বলন্ত প্রমাণ। একটি অসহায়, মানসিকভাবে ভঙ্গুর নারীর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ কেবল অপরাধ নয়—মানবতাবিরোধী কাজও বটে। পাগলী হওয়ায় যে কেউ যৌন নিপীড়নের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এই মানসিকতা থেকেই সমাজে ধর্ষণের প্রবণতা বেড়ে চলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সদস্য কিংবা ফুলবাড়িয়া থানার সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই বিষয়ে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা। তারা জানান,
পাগলী নারীর চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বাজারে রাত্রিকালীন পুলিশি টহল বাড়াতে হবে।

See also  হালুয়াঘাটে আসামী ধরতে গিয়ে খামারের ১০ গরু জব্দ, অবহেলায় তিনটির মৃত্যু, নিঃস্ব পরিবার

পাগলী বলে কোনো নারী তার নিরাপত্তার অধিকার হারিয়ে ফেলে না। তার মানসিক অবস্থা যতই খারাপ হোক, যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ কোনোভাবেই বৈধতা পায় না। ফুলবাড়িয়ার জয়না বাজারে যা ঘটেছে তা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি অনুরোধ, যেন দ্রুত এই নারীর চিকিৎসা, সুরক্ষা এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা হয়।

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with