
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫-কে সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করতে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক তথ্যবহুল ও তাৎপর্যপূর্ণ সাংবাদিক কর্মশালা।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ভিআইপি মিলনায়তনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিস, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব লুৎফুন নাহার।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব ফায়জুল হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খান,ইউনিসেফ প্রতিনিধি ডা: তারিকুল ইসলাম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা: মুত্তাকীন।
এছাড়াও কর্মশালায় অংশ নেন ময়মনসিংহের প্রিন্ট এন্ড ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীবৃন্দ, জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মাদ প্রমূখ।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফায়জুল হক বলেন, একটি শিশুর হাসিই একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাই শিশুর জীবন রক্ষায় টিকার ভূমিকা অপরিসীম। গণমাধ্যম হলো সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন। সাংবাদিকদের কলম সমাজে সচেতনতার আলো ছড়ায়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খান বলেন, টাইফয়েড টিকা এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা শিশুকে দীর্ঘমেয়াদে এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে রক্ষা করবে। আগামী সপ্তাহ থেকে ময়মনসিংহসহ সারাদেশে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। দুই বছর বা তার বেশি বয়সী সকল শিশুই এ টিকার আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্যখাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। এবার টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বহন করছে। সাংবাদিকদের ইতিবাচক প্রচারণা এই উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে।
ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা বলছেন, ময়মনসিংহসহ সারাদেশে আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছি। তথ্যই শক্তি, সঠিক তথ্য প্রচার করলে মানুষ নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব বুঝতে শিখবে।
টাইফয়েড একটি জলবাহিত ব্যাধি, যা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সরকারের উদ্যোগে এই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার লক্ষ্য দেশের প্রতিটি শিশুকে টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
এই কর্মসূচির আওতায় দুই বছর থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে।
পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ও টিকাদান, এই তিনটি বিষয় একত্রে নিশ্চিত করতে পারলে টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
কর্মশালায় উপস্থিত বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাংবাদিকরাই হতে পারেন সবচেয়ে বড় অনুঘটক। তাঁদের কলম ও ক্যামেরার মাধ্যমে জনগণ জানতে পারে সরকারি উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব সম্পর্কে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, এই কর্মশালা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি দায়িত্ববোধের স্মারক। সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল প্রচারণাই টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনকে সফল করবে। এই কর্মশালার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে টাইফয়েড প্রতিরোধে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগের বার্তা পৌঁছে যায়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের তথ্যনির্ভর প্রচারণা, সরকারের পরিকল্পনা ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় “টাইফয়েডমুক্ত বাংলাদেশ” গঠনের স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে।


















