
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মেইলস্টোন স্কুলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকাহত পুরো জাতি। দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে হালুয়াঘাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিনব্যাপী শোক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সকালে হালুয়াঘাট পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজ ধারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
দোয়া মাহফিলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, স্কুলে পাঠরত অবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জাতিগত শোক ও বেদনায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সূর্য সন্তানদের হারিয়েছে
তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনায় জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সরকার যেন দোষী বা অবহেলার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তিনি দুর্ঘটনার পর বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের উদ্ধারকাজ, রক্তদান এবং আহতদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন।
প্রিন্স বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এতে আমরা দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সক্রিয় থাকতে পেরেছি।
তিনি সরকারের কাছে নিহত ও আহতদের প্রকৃত সংখ্যা স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান, যাতে করে জাতীয় মনস্তত্ত্বে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবির।
বক্তারা এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর মনিটরিং ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের দাবি জানান।
পরে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় শোকের মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির এই মানবিক শোক পালন কর্মসূচি দলীয় চেতনার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধেরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অকাল মৃত্যুতে গোটা দেশ যেমন শোকস্তব্ধ, তেমনি সকলেরই প্রত্যাশা, এই দুর্ঘটনা যেন ভবিষ্যতের সতর্কতার শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।






















