
হালুয়াঘাট ( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে উপজেলা পরিষদ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট, বাজারের বিশৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হবে, এবং জনসাধারণের চলাচল হবে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
প্রথমেই সিএনজি স্টেশন এলাকায় রাস্তার দুই পাশে এইচবিবি নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে সিএনজি চালকরা আর রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা না করান। ইউএনও বলেন, “নির্ধারিত স্থানে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক করা হবে, ব্যত্যয় ঘটলে আইন প্রয়োগ করা হবে।”
এছাড়া উপজেলা পরিষদের আওতাধীন বাসস্ট্যান্ডে বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হচ্ছে। কার্যকর ড্রেইনেজ সিস্টেম চালু হলে রাতের বেলায় রাস্তায় বাস রাখা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে, যা যানজট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।
ধারা বাজারের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে ত্রিকোণাকার জায়গায় একটি আধুনিক পান্থকুঞ্জ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে বসার বেঞ্চি ও পাঠকদের জন্য ছোট আকারের লাইব্রেরি সদৃশ অবকাঠামো তৈরি হবে, যাতে জায়গাটি দখলমুক্ত থাকে এবং পথচারীদের জন্য হয় এক প্রশান্তির স্থান।
ধারা বাজারে যানজট নিরসনে সিএনজি ও অটোর নির্ধারিত থামার জায়গা সম্প্রসারণ করা হবে। এতে রাস্তায় যত্রতত্র যানবাহন দাঁড়ানো বা যাত্রী ওঠানামা বন্ধ হবে। ইউএনও কঠোর সুরে বলেন, “রাস্তার উপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে ব্যবসা করা যাবে না, নিয়ম মানতেই হবে।”
বাজারের ভেতরে রাস্তা দখল করে ব্যবসা করা ভাসমান দোকানদারদের অন্যত্র পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বাজারের শেডগুলো সংস্কার, নতুন রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ এবং ভাসমান সবজি ব্যবসায়ীদের শেডের মধ্যে পুনর্বাসন করা হবে। বাজার সমিতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এছাড়া নাগলা বাজারে বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হবে, যা বাজারের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে কার্যকর করবে।
ধারা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, “এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে আমাদের ব্যবসা আরও সুন্দরভাবে চালানো সম্ভব হবে, ক্রেতাদেরও বাজারে আসতে আর অসুবিধা হবে না।
সিএনজির কয়েকজন চালক একমত পোষণ করে জানান, যদি নির্ধারিত জায়গাগুলো সঠিকভাবে নির্মাণ ও চিহ্নিত করা হয়, তাহলে তারা নিজেরাও শৃঙ্খলা মেনে চলতে আগ্রহী থাকবেন। এতে যাত্রী উঠা-নামা সহজ ও নিরাপদ হবে, যানজটও অনেকাংশে কমে যাবে। এভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থা হলে আমরাও স্বস্তিতে কাজ করতে পারব, যাত্রীরাও সন্তুষ্ট থাকবে, আর আমরা নিজেরও ভালো লাগবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা আর যানজটের যন্ত্রণায় ভুগছি। বর্ষা এলেই পানি জমে রাস্তা কাদাময় হয়ে যেত, চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। যানজটের কারণে বাজারে আসা-যাওয়া ছিল একেবারেই কষ্টকর। এবার উপজেলা পরিষদের এই উদ্যোগ দেখে মনে হচ্ছে, সত্যিই আমাদের সেই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূর খান জানান, এই প্রকল্পগুলো মূলত জনসাধারণের কল্যাণ ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে হাতে নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা মোকাবিলা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমরা একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। এই কাজ শুধু প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, চালক এবং সাধারণ নাগরিক, সবার সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন। নিয়ম মেনে চলা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই পরিবর্তনকে স্থায়ী করা সম্ভব।






















