
মো: এনামুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটবে এ বৃহৎ জামাতে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিতব্য এ জামাতকে ঘিরে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ৬টি ওয়াচ টাওয়ার, ৪টি ড্রোন ক্যামেরা এবং ৬৪টি সিসি ক্যামেরা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীরে শেষ মুহূর্তের রঙের কাজ চলছে। মুসল্লিদের কাতার সোজা রাখতে মাঠজুড়ে দাগ কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা।
এবারের জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদের একটি মাত্র জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে, যা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।
শোলাকিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “লাখো মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে নামাজ আদায় করার অনুভূতিই আলাদা। এখানে কেউ একজনের দোয়া কবুল হলে তা সবার জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে। তাই প্রতি বছরই আমরা এই জামাতে অংশ নিই।”
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, “মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।”
এদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, “দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়া ঈদগাহে আগতদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাতের জন্য পরিচিত। বংশপরম্পরায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা এ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন, যা এক অনন্য ধর্মীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।


















