
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
প্রকাশ্যে জনাকীর্ণ এলাকায় অভিনব কৌশলে ৪ লাখ টাকা চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারিতে চোর মোঃ হান্নান মিয়াকে (৬২) রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর। ওই দিন দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের ছোট বাজার এলাকায় অবস্থিত পূবালী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে জনতা ব্যাংকে লেনদেন শেষে স্থানীয় লিমা প্রিন্টিং প্রেসের সামনে আসেন শামছুল আলম (৬৫)। ঠিক তখনই অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি তার শরীরে ময়লা জাতীয় কিছু ছিটিয়ে দেয় এবং একজন বলে ওঠে, “আপনার কাপড়ে ময়লা লেগেছে।” তিনি কাপড় পরিষ্কার করতে ব্যস্ত থাকাকালে সাথে থাকা ব্যাগ থেকে চোরেরা ৪ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
এই ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী (মামলা নং- ৪৫(১১)২২, ধারা- ৩৭৯)। তদন্তে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের পর আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বিল্লাল মিয়া।
অ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর দিকনির্দেশনায় ও পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তারের নেতৃত্বে পিবিআই ময়মনসিংহ একটি বিশেষ টিম গঠন করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় আসামী হান্নান মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে ঢাকা চকবাজারের নাজিমউদ্দিন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হান্নান মিয়া চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। জানা গেছে, সে একটি আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছিল শহরের ব্যস্ততম এলাকায়। শুরুতে আসল চোরকে সনাক্ত করা কঠিন ছিল। দুই বছর ধরে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে পিবিআই চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা এই মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছি। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”


















