
মোঃ আব্দুল হক লিটন ময়মনসিংহ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাংখা ও গণতন্ত্রকে বিএনপি অন্তর থেকে ধারণ করে বলেই জাতীয় ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে দলটি অনেক ছাড় দিয়েছে, সর্বোচ্চটা করছে। কিন্তু ঐক্যের নামে এমন কিছু বিএনপি কখনও করবে না, যা এদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থি।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজারে হরি কিশোর রায় সড়কের বিএনপি কার্যালয়ে “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি” উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহ জেলা ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর আয়োজনে রক্তদানের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
তিনি বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী ১৫ বছরের গণতন্ত্রের লড়াই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তারা আমাদের জাতীয় বীর। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তাদের যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।”
ভোটের পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নয়, সরাসরি প্রার্থী, মার্কা ও দল দেখে ভোট দিতে চায়। অযৌক্তিক ও বিভ্রান্তিকর দাবি না তুলে সবাইকে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে আসতে হবে।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাংখা হৃদয়ে ধারণ করেন। আপনাদেরও সেই আকাংখা নিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত থাকতে হবে। ‘কি পেলাম’ তা নয়—’কি দিলাম’ সেটাই হোক রাজনীতির মানদণ্ড।”
তিনি আওয়ামী লীগের চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ অনেক মানুষ হাসপাতালে রক্ত ও চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। সরকারি হাসপাতালে আহতদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। তবে বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, মানবিকতা নিয়েই আমরা তাদের দিকে তাকাব, তবে সংশোধন জরুরি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ড্যাব সভাপতি ডা. বদরউদ্দিন সেলিম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডা. সায়েম মনোয়ার।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার ও জেলা বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মুসা শাহিন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।






















