
éতপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে পাথর দিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বিএনপি ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ময়মনসিংহের ফুলপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) বিকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ফুলপুর উপজেলা শাখার ব্যানারে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে মানুষ এসে জমায়েত হন ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড বড় মসজিদের সামনে। সেখান থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড কেবল সন্ত্রাস নয়, এটি বিএনপির যুবদলের রাজনৈতিক মদদে পরিচালিত চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের নগ্ন প্রকাশ।”
বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফুলপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম, ছাত্র শাখার সভাপতি মিনারুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে সোহাগ (৪৩) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় মঈন নামের এক যুবদল নেতা ও তার সঙ্গীরা।
পুলিশ এ ঘটনায় ইতিমধ্যে মঈনসহ চারজনকে আটক করেছে। নিহত সোহাগের বন্ধু মামুন জানান, গত কয়েক মাস ধরে মঈন প্রতি মাসে চাঁদা দাবি করছিল সোহাগের কাছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে হুমকি দেয় এবং অবশেষে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
নির্মমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে হামলাকারীরা শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি; সোহাগকে বিবস্ত্র করে শরীরের উপর উঠে নাচানাচি করে বলেও অভিযোগ ওঠে। আতঙ্কে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস করেনি, কারণ অভিযুক্ত মঈন বিএনপি যুবদলের চকবাজার থানার সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং বিভিন্ন চাঁদাবাজি ও ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে এলাকাবাসী জানায়।
ফুলপুরের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং সারা দেশের মানুষকে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।






















