তারাকান্দায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

তারাকান্দায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

তপু রায়হান রাব্বি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার সুবলিয়াপাড়া গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী নূরুল আলম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।

বুধবার (১৮ জুন) সকালে সুবলিয়াপাড়া ঈদগাহ মাঠে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষে হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, নূরুল আলম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। এমনকি নিজের মা ও বোনদেরও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় সে। আহতদের আশ্রয় দিয়ে প্রতিবেশীরা মানবিক আচরণ করায়, পরবর্তীতে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আইনুল হুদা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানসহ নিরীহ মানুষদের ওপর হামলা ও হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখে।

See also  নেত্রকোনায় দা’র কোপে গুরুতর আহত ১, নারী সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নূরুল আলম একসময় সুবলিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ধোবাউড়া উপজেলার গাছুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে হাইকোর্টে রিট করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল শিক্ষক আইনুল হুদাকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তার ছেলে মইনুল হুদাকে অপহরণ করে নূরুল আলমের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী। ওই ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা (এফআইআর নং ৯৮/৪৪৯) দায়ের করা হয় এবং পুলিশের অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার ও প্রধান আসামি নূরুল আলম গ্রেফতার হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় অপহরণের বিষয়টি স্বীকারও করেছে সে।

See also  চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বিএনপির অন্তরে: সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

বর্তমানে মামলাটি ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া, নূরুল আলমের মেয়ে আফসানা ফারিন মিতু রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয় স্মারকলিপিতে। তিনি কথায় কথায় জেলা প্রশাসকের নাম ব্যবহার করে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলেছেন বলেও অভিযোগ উঠে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নূরুল আলম ও তার পরিবারের হাতে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও প্রতিবেশীরা। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with