
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় মাদক প্রবেশের চেষ্টায় গতি রোধ করেছে থানা পুলিশের কড়া অবস্থান। সোমবার (২১ জুলাই) ভোররাতে মাদকবিরোধী এক সফল অভিযানে ১১৬ বোতল ভারতীয় মদসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ধোবাউড়া থানা পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে ধোবাউড়া বাসস্ট্যান্ড টিকিট কাউন্টারের সামনে সন্দেহভাজন একটি ই-এক্স-২ মডেলের পিকআপভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটির পেছনের অংশে বস্তাবন্দী অবস্থায় পাওয়া যায় ৭০ বোতল আইচ ভটকা (৭৫০ এমএল), ২৪ বোতল মেঘডয়েল নং-১ (৭৫০ এমএল), এবং ২২ বোতল এসি ব্ল্যাক (৭৫০ এমএল) মদ—মোট ১১৬ বোতল ভারতীয় মদ।
পুলিশের এই অভিযানে আটক হয় গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদ নগর এলাকার বাসিন্দা হানিফ শওদাগরের ছেলে আজিজুর রহমান হৃদয়কে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন সরকার। সঙ্গে ছিলেন ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক ও একদল চৌকস পুলিশ সদস্য।
ধোবাউড়া ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এখানকার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা বহুদিন ধরেই মাদক চোরাচালানকারীদের কাছে নিরাপদ রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে অরক্ষিত সীমান্ত পয়েন্ট এবং পাহাড়ি চোরাপথ দিয়ে মদ, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য প্রবেশের চেষ্টা চলে প্রায়শই।
তবে সম্প্রতি ধোবাউড়া থানা পুলিশের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চালু করা হয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান। ওসি আল মামুন সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একাধিক অভিযান ইতোমধ্যেই মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন সরকার বলেন, আমরা সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। এই অঞ্চল দিয়ে মাদক পাচারের অনেক চেষ্টা হয়েছে, তবে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ধোবাউড়ায় কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সোর্সের মাধ্যমে আগে থেকেই আমরা জানতাম সীমান্ত দিয়ে ধোবাউড়া রাস্তা ব্যবহার করে মাদকের বড় চালান যাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তাই আমরা চেক পোস্ট তৈরি করে আটক করতে সক্ষম হই।
তিনি আরো জানান, সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিটি জনপদের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মাদক নির্মূলে কাজ করছি। পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদেরও এ যুদ্ধে ভূমিকা রাখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় সুধীজন ও সমাজকর্মীরা জানান, ধোবাউড়ার মতো সীমান্ত এলাকায় পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি ও গোয়েন্দা নজরদারি মাদক চোরাচালান রোধে বড় ভূমিকা রাখছে।
তারা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,
এভাবে যদি অভিযান চালু থাকে, তাহলে ধোবাউড়াকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।
ধোবাউড়া সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধে পুলিশের সর্বাত্মক ও সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়। নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা, স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা এবং আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এই সীমান্ত অঞ্চলে মাদক-সন্ত্রাসের ঘাঁটি ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে।
মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সবার সচেতনতা ও অংশগ্রহণই হতে পারে টেকসই সমাধান।





















