
স্টাফ রিপোর্টার ঃ
ময়মনসিংহ জেলা ফুলপুর উপজেলা ফুলপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জীবন মিয়া সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে জীবন মিয়াকে মাদক মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অপর তিনজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ই জুন সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহের একটি চৌকস দল ফুলপুর উপজেলায় অভিযান চালায়। অভিযানে মো: জীবন মিয়া (৩৪) নামের এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে ৮ কেজি গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনায় ফুলপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, পৃথক আরেকটি অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে ২ জনকে ৬ মাস করে এবং ১ জনকে ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। একইসাথে তাদের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মাদক যুব সমাজকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদকাসক্তি যুবকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি তাদের পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং পারিবারিক সম্পর্ককে নষ্ট করে দেয়। মাদকের আগ্রাসন থেকে আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। এই লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশকে পঙ্গু করে দেয়। মাদকের কারণে সমাজে চুরি, ছিনতাই, খুনসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণরা যখন একবার মাদকের জালে জড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।”
তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম সীমা এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাদি মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, “মাদকের বিস্তার রোধে ফুলপুর থানা পুলিশ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। আমরা মাদকের উৎস থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সকলকে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ জয় করা সম্ভব নয়। তাই আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করুন। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।”
ওসি আব্দুল হাদি জোর দিয়ে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফুলপুরকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
ইউএনও এবং ওসি’র বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের এই যৌথ প্রচেষ্টা ফুলপুরকে মাদকমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে এই যুদ্ধে সফল হতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা অত্যন্ত জরুরদ






















