ফুলবাড়িয়ায় সন্ত্রাসীদের হুমকিতে আতঙ্কিত মামলার সাক্ষীগন

ময়মনসিংহ থেকে মোমেনা আক্তার সনিয়াঃ

ঘরে-বাইরে এখন শুধু আতঙ্ক। রাতে দরজা জানালা বন্ধ করে, বাতি নিভিয়ে শিশুকে বুকে চেপে ধরে শুয়ে থাকে এক মা, সে জানে, তার ছেলের শুধু ‘সাক্ষী’ হওয়াটাই আজ শত্রুতা ডেকে এনেছে।

এটা কোনো নাটকীয় কাহিনি নয়। এটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের বাহীদাটি গ্রামের একটি পরিবার ও তাদের প্রতিবেশীদের বাস্তব জীবন। যেখানে মামলা করার ‘সাহস’ দেখানোয় দিনের আলোয় অস্ত্র হাতে হুমকি দিচ্ছে জামিনে মুক্ত হওয়া আসামিরা।

ভুক্তভোগী মো. আল আমীন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবুও ভয় কাটেনি। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের একটি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা মামলার সাক্ষীদের চুপ করিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে।

See also  হালুয়াঘাটে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় গণদোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ

একদিন দুপুরে আল আমীনের বাড়ির সামনে এসে সন্ত্রাসীরা বলে, সাক্ষ্য দিলে তোদের খুন করে ফেলবো। এই একটি বাক্যে বদলে যায় একটি পরিবারের জীবন।

ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পায়, বৃদ্ধা মা জানালা খুলে বাইরে তাকাতে সাহস পান না, আর আল আমীন যেন প্রতিদিন যুদ্ধ করে বাঁচেন।

শুধু হুমকিই নয়—সন্ত্রাসীরা বাড়ির সামনে ময়লা ফেলে দেয়, পথ বন্ধ করে দেয়, রাস্তায় বা বাজারে দেখলে হেনস্তা করে। মামলার সাক্ষী হওয়াটা যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এলাকাটি ক্রমেই ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢেকে যাচ্ছে। যেকোনো সময় বড় কিছু ঘটে যেতে পারে, এই আতঙ্কে দিন পার করছেন সবাই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কয়েকজন গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, আমরা এমন হুমকি আগে কখনো দেখিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ এসে খোঁজও নেয়নি।

See also  হালুয়াঘাটে স্ত্রী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুজিত গ্রেপ্তার

আল আমীন বলেন, বিচারের আশায় মামলা করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই চরম বাস্তবতায় প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রশ্ন, সত্যের পাশে দাঁড়ানোর মূল্য কি জীবন দিয়ে দিতে হবে?

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে মামলা সঠিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
নইলে, ভবিষ্যতে আর কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করবে না।

মানুষ বাঁচলে সাক্ষ্য থাকবে, বিচারও তখনই হবে। এখন সময়, সাহসী মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর।

 

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with