ময়মনসিংহে দুটি পৃথক হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি, একজনের যাবজ্জীবন

মোমেনা আক্তার সোনিয়া ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহে সম্প্রতি দুইটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আদালত কঠোর শাস্তি কার্যকর করেছে। একদিকে পুলিশের সহকর্মী ও তার স্ত্রী কর্তৃক কনস্টেবল হত্যার ঘটনা, অন্যদিকে আঠাধার এলাকায় বৃদ্ধা মোছাঃ কুলছুম হত্যার ঘটনা। উভয় ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর রায় প্রদান করেছেন।

২০১৪ সালের আগস্টে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানা এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩২) নৃশংসভাবে হত্যা হন। সহকর্মী কনস্টেবল আলাউদ্দিন ও তার স্ত্রী নাসরিন নেলী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। অভিযোগ অনুসারে, নেলী সাইফুলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে আলাউদ্দিন সন্দেহজনিত বিরোধ তৈরি করে।

১১ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে ১২ আগস্ট রাত ৮টার মধ্যে আলাউদ্দিন ও নেলী সাইফুলকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তারা লাশ চটের বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রাইভেটকার চালক মোঃ আরিফ পচা গন্ধ পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে এবং দম্পতিকে আটক করে।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

২০২২ সালের মার্চে আঠাধার এলাকার মোছাঃ কুলছুম (৫৮) নৃশংসভাবে হত্যা হন। ঘটনার দিন বিকেলে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে কোরানের হাফেজ ও তাবলীগ জামাতের লোক হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে তারা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেওয়ায় দা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। স্থানীয় প্রতিবেশীরা আওয়াজ শুনে এগিয়ে আসলে আসামীরা পালানোর চেষ্টা করে।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে। জব্দ করা হয় দা ও ছিনতাই করা স্বর্ণালংকার। হত্যাকাণ্ডের পর ময়মনাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৪-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক জয়নাব বেগম উভয় হত্যাকাণ্ডে কঠোর রায় প্রদান করেছেন।

পুলিশ কনস্টেবল হত্যার মামলায় মোঃ রুবেল মিয়াকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও আসামি দ্বীন ইসলামকে জাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কুলছুম হত্যাকাণ্ডের মামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান, আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

নৃশংস হত্যার এই দুটি রায় স্থানীয় সমাজে শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনের আওতায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিচার কার্যকরভাবে কার্যকর হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *