
আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহ, ১০ জুলাই:
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাশের হার ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বোর্ড কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শহীদুল্লাহ।
তিনি বলেন, এই ফলাফল মোটেও সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলার ফলাফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এই পাশের হার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে ভবিষ্যতের ফলাফল ভালো করতে।
এ বছর বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১,০৫,৫৫৮ জন। এর মধ্যে ৬১,৪৫৬ জন পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬,৬৭৮ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বিভিন্ন গ্রেডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে ২০,৫৪৮ জন, জিপিএ ৩.৫০ থেকে ৪.০০-এর মধ্যে ১৪,৫৫০ জন, জিপিএ ৩.০০ থেকে ৩.৫০-এর মধ্যে ১১,৮৯২ জন, জিপিএ ২.০০ থেকে ৩.০০-এর মধ্যে ৭,৬০০ জন এবং জিপিএ ১.০০ থেকে ২.০০-এর মধ্যে রয়েছে ১৮৮ জন।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১১টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাশ করতে পারেনি। পাশাপাশি ১১টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে। যেসব প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
শাখাভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থী ছিল ৪৪,০৬০ জন, পাশ করেছে ৩৪,৬১৬ জন। পাশের হার ৭৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মানবিক শাখায় ৫৬,১১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৪,০৪২ জন, পাশের হার ৪২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পরীক্ষার্থী ছিল ৫,৩৭৯ জন, পাশ করেছে ২,৭৯৮ জন, পাশের হার ৫২ দশমিক ০২ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে জামালপুর জেলার অবস্থান সবচেয়ে ভালো। এ জেলায় ২৫,৯৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৫,৬৩৬ জন। পাশের হার ৬০ দশমিক ১৯ শতাংশ। এরপর নেত্রকোণা জেলায় পাশের হার ৫৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ময়মনসিংহ জেলায় ৫৭ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং শেরপুর জেলায় পাশের হার ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশের সময় বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের সম্পূর্ণ অধিকার বোর্ড কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে। ফলাফল প্রকাশের পরের দিন থেকে ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে টেলিটক সিম থেকে SMS-এর মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। ম্যানুয়েল বা সরাসরি কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
বোর্ড চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু ফল নয়, শিক্ষা হচ্ছে মানসিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার প্রতিফলন। তাই সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করতে হবে।






















