
ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও ফুলপুর মহাসড়ক যেন এখন মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৪টি তাজা প্রাণ, আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জনের বেশি।
এই মৃত্যু শুধু সংখ্যা নয়—প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে আছে অসহায় পরিবার, অকাল স্বপ্নভঙ্গ, আর অগোছালো ভবিষ্যৎ।
রোববার (২২ জুন): তিন প্রাণ গেল একসাথে
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারাকান্দার বাগুন্দা এলাকায় ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কে বাস, অটোরিকশা ও পিকআপের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান ৩ জন। আহত হন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, একটি দ্রুতগতির বাস ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ও অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। মুহূর্তেই থেমে যায় তিনটি জীবন।
শুক্রবার (২০ জুন): আরও ১১ প্রাণ নিভে যায়
তার মাত্র দুই দিন আগে, শুক্রবার রাত ও সন্ধ্যায় তারাকান্দা ও ফুলপুরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় মারা যান ১১ জন। একটি ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি সংঘর্ষে প্রাণ হারান শিশুসহ কয়েকজন।
সেই শোক তখনও পল্লবিত, এর মধ্যেই রোববারের দুর্ঘটনা যেন আরও রক্তাক্ত করল এই সড়কটিকে।
“এই রাস্তায় প্রতিদিন মরছে মানুষ”—স্থানীয়দের ক্ষোভ
বাগুন্দা গ্রামের বাসিন্দা হান্নান মিয়া বললেন, “প্রতিদিন এই রাস্তায় মানুষ মরতেছে। অথচ কেউ কিছু করে না। মন্ত্রী-আমলা আসে, দেখে যায়—কিন্তু পদক্ষেপ নেয় না।”
ফুলপুর ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, “আমরা দ্রুত উদ্ধারকাজ করি, কিন্তু দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মৃত্যুর হাত থেকে কাউকে বাঁচানো যায়নি।”
দোষ কার?—বেপরোয়া গতি, দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে স্পিড ব্রেকার না থাকা, ট্রাফিক পুলিশের টহল ঘাটতি, এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাবই এসব মৃত্যুর পেছনে বড় কারণ।
ময়মনসিংহের একজন ট্রাফিক কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, “আমরা সব সময় নজরদারি রাখতে পারি না। কিন্তু এখন নতুন করে ভাবতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি: এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক সমাজ বলছেন, এখনই যদি শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়—এই রক্তস্রোত থামবে না।
তাদের প্রস্তাব—
ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে স্পিড ব্রেকার ও সিসিটিভি স্থাপন
নিয়মিত ট্রাফিক টহল
চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই
দূরপাল্লার বাসে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোরকরণ
একটি মহাসড়ক যেন মৃত্যুর হাটে পরিণত হয়েছে। তিন দিনে ১৪টি প্রাণ নিভে যাওয়া কেবল দুর্ঘটনা নয়—এ এক নীরব গনহত্যা, যা প্রতিদিন ঘটছে।
প্রশ্ন উঠছে—এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত আর ক্ষতিপূরণে দায় সারলেই হবে না, দরকার বাস্তবসম্মত, দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
কারণ পরবর্তী লাশ হতে পারেন আপনিও, আমিও, অথবা আমাদের প্রিয়জন।






















