
মোঃ আব্দুল হক লিটন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটে নবম শ্রেণির এক গারো আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে পরিচিত মিলন মিয়া কিশোরীকে পার্কে ডেকে নেয়। সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় আসামি আবুল বাশারের অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে জুগলী নয়াপাড়া ব্রিজের কাছে এবং রাত ১০টার দিকে রুস্তমপুর খালের আকাশমনি গাছের নিচে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। রাত ১১টার দিকে ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গামারিতলা মোড়ে ফেলে চলে যায় আসামি।
পরের দিন কিশোরীর মা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিযান শুরু করে। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে জুগলী নয়াপাড়া এলাকা থেকে আসামি মিলন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ১ অক্টোবর দুপুরে কুতিকুড়া এলাকা থেকে প্রধান আসামি আবুল বাশারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর বুধবার বিকেলে হালুয়াঘাট থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাগর সরকার বলেন, “গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিকটিমকে উদ্ধার ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুনসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূর খান বলেন, ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। জনগণকে নিশ্চিত করছি, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দোষীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এই অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাজ শান্ত থাকতে পারবে, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। গারো সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, আমাদের মেয়ের সম্মান ফিরিয়ে দিন, আর কোনো কিশোরী যেন এমন অন্যায় সহ্য করতে না হয়।






















