
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিহত হালুয়াঘাটের তিন শহীদ পরিবারের সদস্যরা আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
রবিবার দুপুরে হালুয়াঘাট পৌর শহরের ইমেক্স হোটেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এক যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৫ আগস্ট গাজীপুরের মাওনায় পুলিশের গুলিতে নিহত কাওসার বিজয় ফরাজীর পিতা সায়েদুল ইসলাম ফরাজী, ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণে নিহত শেখ সেলিমের পিতা কলিম উদ্দিন, মা সখিনা খাতুন, স্ত্রী আসমা খানম, ছেলে শাওন এবং ২০ জুলাই গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত মনির হোসেন রাসেলের পিতা নিজাম উদ্দিন বিএনপির প্রাথমিক সদস্য ফরমে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। নিহত মনির হোসেন রাসেলের লাশ এখনও পাওয়া যায়নি বলে পরিবার জানায়।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রিয় সন্তানদের রক্ত বৃথা যাবে না। বিএনপির নেতৃত্বেই জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব। তাঁরা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং হালুয়াঘাটের জনগণের প্রতি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ফুল দিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিএনপিতে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই শহীদ পরিবারের সমর্থন আমার জন্য গর্বের, অনুপ্রেরণার। তাঁদের রক্তের ঋণ আমি কখনও ভুলবো না, জীবনভর জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করবো।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান ছিল জনগণের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের আন্দোলন। বিএনপি সেই আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এখন কিছু দল গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বিকৃত করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। গণভোট, পিআর বা নতুন সংবিধান ইস্যু তুলে নির্বাচন নস্যাৎ করার চেষ্টা হচ্ছে, এগুলো আসলে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত নির্বাচন অপরিহার্য। প্রয়োজনে নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে পারে, তবে আগে নয়। আমি নির্বাচিত হলে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার শহীদদের নামে সড়ক, স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি রক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবির। উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহীদ কাওসার বিজয় ফরাজীর পিতা সায়েদুল ইসলাম ফরাজী, শহীদ শেখ সেলিমের পিতা কলিম উদ্দিন ও ছেলে শাওন, শহীদ মনির হোসেন রাসেলের পিতা নিজাম উদ্দিন এবং গুলিবিদ্ধ মেহেদী হাসান।
এছাড়া দিনব্যাপী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাটের গাজিরভিটা ইউনিয়নের বোয়ালমারা গ্রামে গারো সম্প্রদায়ের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও গ্রামবাসী আসন্ন নির্বাচনে তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিকেলে তিনি সুমনিয়া পাড়া বাজারে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন এবং বলেন, দুঃখ মোচন করে আলোকিত, উন্নত ও সমৃদ্ধ হালুয়াঘাট গড়তে ধানের শীষে ভোট দিন।






















