
নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি,
নতুন একটি রাজনৈতিক দলকে সামনে রেখে বিএনপির বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী ও বাংলাদেশবিরোধী শক্তি—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, “একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র ও ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এখন বিএনপিকে টার্গেট করেছে। স্বাধীনতাবিরোধী ও দেশের শত্রু দুটি রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে নতুনভাবে তারা বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।”
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুশুলধারে বৃষ্টির মধ্যেও অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।
।।।।
প্রিন্স অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠী নতুন দলকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংঘাত সৃষ্টির উসকানি দিচ্ছে, যাতে করে নির্বাচনের পরিবেশ অস্থির করা যায়। কিন্তু বিএনপি সংঘাতের ফাঁদে পা দেবে না বলে তিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন।
এ সময় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “তারেক রহমান বিএনপির ভবিষ্যৎ, আমাদের কাণ্ডারি। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে এখন চরিত্র হননের ষড়যন্ত্র চলছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তারেক রহমান ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপি মেনে নেবে না।”
তিনি দাবি করেন, বিএনপির লন্ডন বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরামর্শ অনুযায়ী রোজার আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
সম্প্রতি যুবদল কর্মী সোহাগ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভাঙ্গারী ব্যবসা নিয়ে বিরোধে ঘটে যাওয়া একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।” তিনি আরও বলেন, যারা এ ধরনের ঘটনা ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে আধিপত্যবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের দোসর।
দলীয় শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গুটিকয়েক নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় বিএনপি নেবে না।” তিনি বলেন, “যে কোনো কর্মী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে সে বিএনপির কর্মী হওয়ার অধিকার হারায়। বিবেকবান ও সৎ নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ, এসব অপকর্মকারীকে দল থেকে বয়কট করুন ও কেন্দ্রীয় দফতরকে জানিয়ে দিন।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “সকল ষড়যন্ত্র পাশ কাটিয়ে ইনশাআল্লাহ আগামী রোজার আগেই নির্বাচন হবে। এখন থেকেই ঘরে ঘরে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার শুরু করতে হবে।” সেইসঙ্গে তিনি তারেক রহমানের জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
কর্মী সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের হয়, যা হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ সড়কসহ ধারা বাজারের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর।
বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হাই, আলী আশরাফ, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর আলম বিপ্লব, যুবদলের মোনায়েম হোসেন খান খোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।






















