
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
বিশ্বব্যাপী উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাড় ক্ষয় রোগ বা অস্টিওপরোসিস। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতি তিনজন নারীর একজন এবং প্রতি পাঁচজন পুরুষের একজন হাড় ক্ষয়ে ভুগছেন। হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পাওয়ায় এসব রোগীর মধ্যে সহজেই ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি দেখা দেয়, যা কখনও কখনও আজীবন পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সোমবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব অস্টিওপরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সায়েন্টিফিক সেমিনারে চিকিৎসকরা এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাজমুল আলম খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও ইন্টার্ন ডাক্তাররা।
বক্তারা বলেন, মানুষের জীবনের প্রথম ৪০ বছর পর্যন্ত শরীরে হাড়ের বৃদ্ধি বেশি হয় এবং ক্ষয় কম হয়। কিন্তু ৪০ বছর পার হওয়ার পর থেকে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ বা ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতির কারণে হাড়ের ক্ষয় দ্রুত বাড়ে। তারা আরও বলেন, খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি, সূর্যের আলোতে কম সময় থাকা, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকা, এসবই হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকরা বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও সূর্যের আলোতে থাকা হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সচেতনতার মাধ্যমেই হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ছোটবেলা থেকেই দুধ, মাছ, ডিম, শাকসবজি ও বাদামজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যাপক ডা. নাজমুল আলম খান বলেন, হাড় ক্ষয় একটি নীরব রোগ। অনেক সময় রোগীরা বুঝতেই পারেন না তারা অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত, যতক্ষণ না কোনো হাড় ভেঙে যায়। তাই ৪০ বছর পার হওয়ার পর সবাইকে নিয়মিত হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।
সেমিনারে চিকিৎসকরা আরও বলেন, হাড় ক্ষয় রোধে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকা, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতন থাকলেই হাড় ক্ষয়জনিত জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।






















