
ধোবাউড়ায় পুলিশের অভিযানে ধরা পড়লো কম্বল পাচারচক্রের ৫ সদস্য
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের দেউলা ব্রীজ এলাকায় ভোররাতে একটি পরিকল্পিত ও তাৎক্ষণিক অভিযানে সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে জব্দ হয়েছে বিপুল পরিমাণ কম্বল, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং পাচারে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোর ৫ টার দিকে ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমামুন সরকার-এর নেতৃত্বে এসআই সাকিব ও এসআই জিয়া সহ পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায়। পুলিশ সূত্রে জানায়, কয়েকদিন ধরেই সীমান্ত এলাকা দিয়ে একটি বড় চোরাচালান চালানের খবর ছিল। দেউলা ব্রীজ এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালালে অবশেষে সেটি ধরা পড়ে।
প্রাইভেটকার ও কাভার্ডভ্যানের গোপন কভারের নিচে রাখা ছিল বিপুল পরিমাণ নতুন কম্বল—ডাবল ও সিঙ্গেল উভয় ধরণের। এগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তে আনা হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে। অভিযানে গাড়িগুলোতে পাওয়া গেছে নগদ অর্থ ও একাধিক মোবাইল ফোনও, যা পাচার চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। প্রত্যেকেই পূর্বে বিভিন্ন চোরাচালান সংশ্লিষ্ট অভিযোগে সন্দেহভাজন ছিল বলে পুলিশ জানায়। তবে এই প্রথমবার তাদের পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা হলো।
ধোবাউরা থানার অফিসার ইনচার্জ আলমামুন সরকার বলেন,
“ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা হওয়ায় অনেক সময় এই অঞ্চলকে ব্যবহার করে চোরাচালানকারীরা সক্রিয় হয়। কিন্তু আমরা সজাগ এবং প্রস্তুত ছিলাম। গোপন তথ্য ও জনগণের সহায়তায় আমরা আজ একটি বড় চালান আটকে করতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পথে কম্বলসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার করে আসছিল। আমরা এখন তদন্ত করছি—এই চক্রের পেছনে কারা আছে, তাদের উৎস কোথায়, আর কারা সহযোগিতা করছে।”
এ সময় জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ শীতবস্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে শত শত কম্বল। সেইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং পাচারে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও কাভার্ডভ্যান। পুলিশের ধারণা, এসব কম্বল সরকারি বরাদ্দ বা এনজিও’র সহায়তা সামগ্রী হতে পারে, যেগুলো গোপনে বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পাচার হচ্ছিল। তদন্ত চলছে।
ধোবাউড়ার সচেতন মহল বলছেন, পুলিশের এমন অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছে। অনেকেই বলছেন, সীমান্তের গলি ও পাড়াগুলোতে প্রতিনিয়তই অল্প পরিসরে নানা চোরাচালান চলে। কিন্তু পুলিশের এমন স্পষ্ট, সফল অভিযান জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বলেন,
“শীত আসলেই দেখা যায় বাজারে নাম না জানা উৎস থেকে আসা কম্বল সস্তায় বিক্রি হচ্ছে। আজ বোঝা গেল এর পেছনে চক্র কীভাবে কাজ করে। পুলিশ সাহসী অভিযান চালিয়ে সেটি প্রমাণ করল।”
এক কলেজ শিক্ষক জানান, এই অভিযান আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। আমরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা শুধু চোর ধরেনি, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটা বার্তাও দিয়েছে যে—অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, ধরা পড়বেই।”
স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাচালান রোধে প্রয়োজন শুধু অভিযান নয়, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে তথ্যভিত্তিক স্থায়ী নজরদারি। এনজিও কিংবা সরকারি সংস্থার সহায়তা সামগ্রী যেন অপব্যবহার না হয়, তার জন্য জবাবদিহি ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও জোরদার করা জরুরি।
– ধোবাউড়া থানার এই সফল অভিযান দেখিয়ে দিল—সঠিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য, দ্রুত পদক্ষেপ ও স্থানীয় সহায়তা থাকলে চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব। এটি দেশের অন্যান্য সীমান্ত এলাকায়ও দৃষ্টান্ত হতে পারে।






















