
তপু রায়হান রাব্বি ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ফুলপুরে আলোচিত কিশোর আবু রায়হান নেহাল হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে টানা উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার ভাইটকান্দি সখল্যা মোড়ে নিহত নেহালের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে অভিযুক্ত প্রেমিকা শান্তার পিতা শেখ ফরিদের একটি সিএনজি ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর বিক্ষোভকারীরা ফরিদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে একটি বিল্ডিং ও একটি বড় টিনশেড ঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান ফারুক এবং ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাদিসসহ পুলিশের একটি দল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে প্রশাসন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রেমঘটিত বিরোধ ও পারিবারিক কলহের জেরে নেহালকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত নেহাল ভাইটকান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। এই ঘটনার মূল চরিত্র হিসেবে উঠে আসে একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শান্তার নাম।
ফুলপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাদিস জানান, ঘটনার পর শান্তাকে জামালপুর জেলার ইসলামপুর থেকে আটক করে গাজীপুরের শিশু কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া শান্তার ভাবি রিমা আক্তারকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। এদিকে নেহালের গলিত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধারের পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।






















