
তপু রায়হান রাব্বি
ফুলপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পৃথক পৃথক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলেন জেলার উপপরিচালক স্থানীয় সরকার লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন। এ সময় সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহান, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার, পিআইও বেগম শাহীন, সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু প্রমূখ।
এর আগে পরিদর্শন করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময়ের সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) মোঃ মাকসুদুর রহমান, ওসি আব্দুল হাদি সহ পুলিশের টিম ।
সুযোগ্য উপপরিচালক স্থানীয় সরকার লুৎফুন নাহার বলেন, “যখন কোনো উৎসব হয়, সেটি কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা যায়, সে বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখি। এ লক্ষ্যে সভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিদর্শনের আগে যেমনটা ভেবেছিলাম, এসে দেখি তার থেকেও সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন হচ্ছে। দেখে মনে হয়েছে, আমাদের দেশের মানুষ সকল ধর্মের উৎসবকে আনন্দঘন পরিবেশে পালনে এগিয়ে এসেছে। এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন বলেন, “জেলার প্রতিটি অনুষ্ঠান এবং প্রতিটি মানুষের কল্যাণে আমার দায়িত্ব রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের স্বার্থে কাজ করেন- আমি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সচেষ্ট।” “আপনাদের মধ্যে যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছি, সেটিই আমাদের বাংলাদেশ। আমরা যে সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করি, তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। পূজা মণ্ডপ তৈরির শুরু থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ পাইনি।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “দুর্গাপূজা হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ ধর্মীয় উৎসবে সবাই যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য পুলিশের টহল টিম নিয়মিত মাঠে থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মন্ডপ এলাকায় মাদক, জুয়া ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। এ উৎসবকে ঘিরে কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা ও থানার পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সিসি ক্যামেরা মনিটরিং, টহল ব্যবস্থা এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে। যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। এছাড়াও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে পূজা উদযাপনের আহবান জানান।
ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, উপজেলায় ৪৬টি মণ্ডপে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে মণ্ডপগুলোতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। এছাড়াও সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলা কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে। যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। পূজায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি বা বিশৃঙ্খা সৃষ্টির কোন আশঙ্কা নেই।






















