
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক নারী-পুরুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। যোগদানকারীদের মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাবেক ব্যাংকার, চাকরিজীবী, গৃহিণী ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
রোববার বিকেলে হালুয়াঘাট পৌর শহরের অগ্রযাত্রা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে উগ্রবাদী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির কবর রচনা করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক বাংলাদেশের নবযাত্রা শুরু হবে।
নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে প্রিন্স বলেন, বিএনপি একটি সর্বজনীন রাজনৈতিক দল। এই দলকে শক্তিশালী করা মানেই দেশ ও জনগণকে শক্তিশালী করা। বিএনপির বিজয় মানেই জনগণের বিজয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার মানুষের দল। “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” এই নীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সব ধর্মের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগণের প্রতি আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি যেমন আপনাদের পাশে থাকবে, তেমনি আপনারাও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে পাশে থাকবেন।
ভালুকায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, এই ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের মাথা নত করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক শাসনের অনুপস্থিতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার সুযোগে এ ধরনের বর্বরতা ঘটছে। যারা এসব ঘটিয়েছে, তারা মানুষ নামের অমানুষ। প্রকৃত বাংলাদেশ এমন নয়, এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র কায়েম করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ইসলামের নামে দেশকে বিভক্ত করতে চায় এবং অতীতে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল। জনগণের ধারণা, তারাই গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থানে নেপথ্যে কাজ করছে। এদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
হারেন ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে এবং উত্তম কুমার বাবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ যোগদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাবু দিলীপ কুমার, আনন্দ ঘোষ, স্নেহাশীষ সরকার, বাধন চন্দ্র সরকার, রঞ্জিত কুমার দেবনাথ, সুপ্রজিত সরকার, রবিন ঘোষ, মধু চন্দ্র পাল, স্বপন কুমার ধর, প্রিন্স সাংমা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও একই দিন সন্ধ্যায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স আমতৈল ইউনিয়নের বাহিরশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র এবং ধারা ইউনিয়নের বীরগুছিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেন।


















