গৌরীপুরের রাজনীতিতে শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি—সংগ্রামী নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল

মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ পরিবারের ভূমিকা সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। শহীদের রক্ত শুধু আন্দোলনকে উজ্জীবিতই করে না, সেই পরিবারের জীবিত সদস্যদেরও দেয় নতুন প্রেরণা। গৌরীপুরের রাজনীতিতে তেমন এক প্রেরণার নাম আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল।

তার ভাতিজা নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণ হারান। শহীদ রাকিবের আত্মত্যাগ গৌরীপুরের মানুষকে আন্দোলনের পথে দারুণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। সেই শহীদের উত্তরাধিকার বহন করছেন বাবুল। তবে তিনি কেবল শহীদের পরিবারের প্রতিনিধি নন, বরং নিজস্ব রাজনৈতিক গুণাবলির কারণে আজ তিনি তৃণমূলের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু।

১৯৯০ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে পথচলা শুরু। তারপর থেকে টানা ৩৫ বছর তিনি রাজপথে। পদমর্যাদা যেমন পেয়েছেন, তার চেয়ে বেশি পেয়েছেন মানুষের বিশ্বাস। ২০২১ সালে যুবদলের সহ-সভাপতি, আর ২০২৫ সালে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে উন্নীত হওয়া তার সংগঠকসুলভ দক্ষতার স্বীকৃতি।

See also  শেরপুরে বিজিবির বিশেষ অভিযান, ৪ লাখ টাকার ভারতীয় মদ আটক

বাবুলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তৃণমূলের সাথে নিবিড় সম্পর্ক। আন্দোলনের সময় যেমন তিনি অগ্রভাগে থাকেন, আবার শান্ত সময়েও চায়ের দোকানে কিংবা গ্রামের আড্ডায় সহজে মিশে যান। মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প শোনেন, তাদের সমস্যাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। এ কারণেই গৌরীপুরের মানুষ মনে করে, তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং তাদেরই একজন।

একজন রাজনীতিবিদের যে গুণ থাকা দরকার, আদর্শে অবিচল থাকা, সাহসিকতা, ত্যাগের মানসিকতা, দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা আর মানবিক আচরণ, এসবই মিলে গেছে আনোয়ারুল ইসলাম বাবুলের ভেতরে। তিনি বিশ্বাস করেন রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকারের জন্য। তারেক রহমানের নির্দেশিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে তিনি নিয়মিতভাবে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, আদর্শকে লালন করে মাঠে কাজ করাই তার প্রধান অঙ্গীকার।

See also  নিঃশব্দে নদী গিলে খাচ্ছে ফুলপুরের পুটিয়ার রাস্তা, ভোগান্তিতে কয়েক গ্রামের মানুষ

শহীদের আত্মত্যাগকে সঙ্গে নিয়ে, আর নিজস্ব নেতৃত্বের যোগ্যতাকে সামনে রেখে, বাবুল এখন গৌরীপুরের সবচেয়ে আলোচিত নাম। স্থানীয়রা বলছেন, আমরা শহীদ পরিবারের কাউকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই। বাবুলের মধ্যে আছে নেতৃত্বের গুণ, আছে সংগ্রামের ইতিহাস। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাকেই আমরা চাই।

গৌরীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই বাবুল এখন এক প্রতীক,যেখানে শহীদের উত্তরাধিকার আর তার রাজনৈতিক সক্ষমতা মিলেমিশে তৈরি করেছে নতুন নেতৃত্বের এক সম্ভাবনা।

 

 

About Abdul Hoque Liton

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share with