
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় দিনরাত ব্যস্ত। উপজেলাসহ ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা জুড়ে তারা সভা-সমাবেশ, হাট-বাজার, চা-দোকান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। এই আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুঙ্গে, তবে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. বদরুজ্জামান ইতিমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
বিএনপিতে ধানের শীষের লড়াইয়ে রয়েছেন, ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও তিনবার দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত, পরিচিত ক্লিন ইমেজ ও রয়েছে নির্বাচনী অভিজ্ঞতা।
আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, দলের প্রতিকূল সময়েও নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো প্রিয় ও নিষ্ঠাবান নেতা।
হাফেজ মো. আজিজুল হক, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব, সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তিনি।
অ্যাডভোকেট নুরুল হক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, ও গৌরিপুর উপজেলা বিএনপি অন্যতম সদস্য। নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়।
আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল, গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক, শহীদ পরিবারের উত্তরসূরি, তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রাখেন।
ডা. আব্দুস সেলিম, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। শামছুল হক (ভিপি শামছু), যুগ্ন আহবায়ক গৌরিপুর উপজেলা বিএনপি।
জামায়াতের একক প্রার্থী মাওলানা মো. বদরুজ্জামান মাঠের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটছেন, নিয়মিত সভা-সমাবেশ চালাচ্ছেন। এছাড়াও জাকের পার্টির মো. নজরুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টির হারুন আল বারী, খেলাফত মজলিসের ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি নাজিম উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. আইয়ুব আলী নূরানীও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. ফাওজুল কবীর খান জানান, আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬০৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৯ জন।
ভোটের ইতিহাসে এই আসনে বিএনপি জয়ী হয়েছে ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালে, জাতীয় পার্টি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে, এবং আওয়ামী লীগ ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির ১,৭৭,২৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন ছিলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৭৬,৫১৭ ভোটে।
স্থানীয়রা বলছেন, “যিনি ধানের শীষ পাবেন, তিনি এলাকার মানুষকে এক সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবেন।” নির্বাচনী মাঠে নেতাকর্মীদের মন জয় এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ৩১ জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে সভা-সমাবেশের সংখ্যা বেড়ে গেছে এবং ভোটাররা অধীর আগ্রহে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।






















