
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিয়ত নানা অজুহাতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে ফন্দিফিকির করছে। কখনো পিআর, কখনো গণভোট, কখনো জুলাই সনদ—তাদের এসব আচরণ শিশুসুলভ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক। তারা গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করতে চায়।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাগলা বাজারে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ শেষে স্বতঃস্ফূর্ত পথসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষে ভোট চেয়ে বিএনপির জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি ও তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইনশাআল্লাহ আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ বছর জনগণ ভোট দিতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর বাংলাদেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ যেমন জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তেমনি জামায়াতও ভোটের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এই গোষ্ঠী এখনও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান করছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এবার ভোট কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না। বিএনপি ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছে। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একদিনের নয়, ৩৬৫ দিনের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। সরকার ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে এবং বাস্তবমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।”
এমরান সালেহ প্রিন্স বিএনপির আগামী সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের জন্য “ফার্মার্স কার্ড” চালু, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়, প্রতি ইউনিয়নে ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষিত বেকারের জন্য এক বছরের “বেকার ভাতা”, এক কোটি কর্মসংস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ সরবরাহ এবং নারীদের জন্য এসএমই ঋণ সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আওয়ামী আমলের একদলীয় বাকশালী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের পতনের পর সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে—যেখানে থাকবে গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা।”
আমতৈল ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক পরান আলী কাঞ্চুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, যুগ্ম আহবায়ক আবদুল হাই, মিজানুর রহমান, মোনায়েম হোসেন খান খোকন, উত্তর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নীলু, ইউনিয়ন বিএনপির সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস প্রমুখ।






















