
মোঃ আব্দুল হক লিটন/কবির উদ্দিনঃ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও সাফল্য দেখিয়েছে থানা পুলিশ। পরপর তিনটি সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার এবং একাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেফতারের ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সবশেষ অভিযানে বৃহস্পতিবার রাতে ধোবাউড়া বাজার ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৪৫ বোতল ভারতীয় মদসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন ধোবাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন সরকার। ওসি তদন্ত মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাতেই চক্রটির গতি-বিধি চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে মদসহ হাতে নাতে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন গাজীপুর জেলার বিল্লাল হোসেন, চারুয়াপাড়ার জয়নাল এবং জয়দেবপুরের তৈয়ব সিদ্দিক। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় মদ দেশে এনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের কথা স্বীকার করেছে।
ধোবাউড়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযান প্রসঙ্গে ওসি আল মামুন সরকার ও তদন্ত ওসি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “মাদক নির্মূলে কোনো আপস নেই। ধোবাউড়াকে মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, একের পর এক অভিযানে মাদক চক্র চাপে রয়েছে এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে। অনেকেই পুলিশের এমন উদ্যোগকে “গেম চেঞ্জার” হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েকটি পৃথক অভিযানে ধোবাউড়া থানা পুলিশ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযান নিয়ে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা মনে করছেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান যদি অব্যাহত থাকে, তবে ধোবাউড়াকে অচিরেই একটি মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বিভিন্ন সময় পুলিশের সাফল্যে যেমন মাদক চক্রগুলোর ভীত নড়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষও এখন আরও সাহসী হয়ে উঠছে। অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে ভয় বা হুমকির কারণে অনেকে মাদক চক্র সম্পর্কে তথ্য দিতে চাইতেন না। কিন্তু এখন পুলিশের নির্ভীক ও কঠোর অবস্থান দেখে অনেকে এগিয়ে আসছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “যেভাবে একের পর এক বড় চালান ধরা পড়ছে এবং কারবারিরা গ্রেফতার হচ্ছে, তাতে করে মনে হচ্ছে পুলিশ সত্যিই আন্তরিক এবং এবার ধোবাউড়ায় মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলার সময় এসে গেছে।”
তাদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান নয়—সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক কারবারিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেই দীর্ঘমেয়াদে ধোবাউড়ায় মাদকের ভয়াবহ ছায়া পুরোপুরি কেটে যাবে।






















