
নাবিলা আফরিন হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ছাব্বিশের রোজার আগে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণাকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজির ভিটা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বরাক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঐতিহাসিক ‘বান্দরকাটা যুদ্ধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে একের পর এক ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন করে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। এবার দেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়— যা হবে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক সংস্কার।”
আলোচনা সভার শুরুতে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স শহীদদের স্মরণে বান্দরকাটা যুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি জানান, বিএনপি সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, “ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করবে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে দলীয় সম্পদের মতো ব্যবহার করেছে। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক ব্যবহারে বিশ্বাসী নয়—তাদের স্থান দলের ঊর্ধ্বে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে।”
বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে হালুয়াঘাটের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী কাজিম উদ্দিন, অধ্যাপক আমজাদ আলী এবং আব্দুর রজ্জাক।






















